নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: খড়দহে অস্ত্র উদ্ধারের তদন্তে পুরুলিয়ায় হানা দিলেন এসটিএফের গোয়েন্দারা। মঙ্গলবার পুরুলিয়ার দশেরবাঁধে ‘পুরুলিয়া গান হাউস’ নামে একটি দোকানে হানা দেন এসটিএফের গোয়েন্দারা। দোকানটি সিল করে দেওয়া হয়। শেখ মনু নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ।
পুরুলিয়ার ওই দোকানটির মালিক ছিলেন শেখরচন্দ্র আধিয়া। ২০১০ সাল নাগাদ শেখরবাবুর মৃত্যুর পর দোকানটি চালাতে শুরু করেন স্ত্রী সুশীলা আধিয়া। একজন ম্যানেজারও রেখেছিলেন। যদিও তাঁর পক্ষে বেশিদিন দোকান চালানো সম্ভব হয়নি। এদিকে দোকানের লাইসেন্সের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। দোকানটি বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ, বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দোকানে থাকা বন্দুক বাইরে পাচার হতে থাকে। মাসখানেক আগে খড়দহের রিজেন্ট পার্কের একটি আবাসনে অভিযান চালিয়ে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। তদন্তে নেমে পুরুলিয়া-যোগ পায় এসটিএফ।
উদ্ধার হওয়া বন্দুকের সিরিয়াল নম্বর মেলাতে গিয়ে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, বেশ কিছু বন্দুক পুরুলিয়া গান হাউসের। এইসব বন্দুক সেখান থেকেই পাচার হয়েছে। তারপরই দোকানের ‘স্টক’ জানতে চেয়ে সুশীলাকে চিঠি পাঠান গোয়েন্দারা। যদিও তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপরই মঙ্গলবার এসটিএফের গোয়েন্দারা এসে দোকানটি সিল করেন। সুশীলা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, গোয়েন্দারা হিসেবে কিছু গরমিল খুঁজে পেয়েছেন বলে দাবি করছেন। আমাকে ১০ দিনের মধ্যে মালপত্রের হিসেব নিয়ে কলকাতা গিয়ে দেখা করতে বলেছেন। তাঁর দাবি, আমার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ওই ম্যানেজারই হিসেবে গরমিল করেছে।
তবে গোয়েন্দাদের তদন্তে উঠে আসছে অন্য তথ্য। সূত্রের খবর, সুশীলা শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন না। শহরের দুলমির একটি বাড়িতে তিনি ঘরভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানেই থাকতেন। ওই ভাড়াবাড়িতে প্রায়ই এই ঘটনায় ধৃত শেখ মনুর আনাগোনা ছিল।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, পুরুলিয়ার ঝালদার হোসেনডির বাসিন্দা শেখ মনুই ওই দোকানের অস্ত্র পাচারে অন্যতম অভিযুক্ত। দোকানের চাবিও থাকত মনুর কাছে। এর আগে খড়দহের ওই দোকানে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় একাধিকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও মনুর নাম উঠে আসে। সোমবার মাঝরাতে দুলমির ওই বাড়িটিতে হানা দেয় পুলিশ। সেখানে মনু ও সুশীলাকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেন এসটিএফের গোয়েন্দারা। তারপরেই মনুকে গ্রেফতার করা হয়।