Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পর্যাপ্ত কর্মীর অভাব, নবদ্বীপ শ্মশানঘাটে দেহ সৎকারে সমস্যায় নাজেহাল বাসিন্দারা

নবদ্বীপ শ্মশানঘাটে কর্মী সংকটের কারণে মৃতদেহ সৎকারে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত নিয়োগ না হলে পরিস্থিতি জটিল হবে। বিস্তারিত পড়ুন।

পর্যাপ্ত কর্মীর অভাব, নবদ্বীপ শ্মশানঘাটে দেহ সৎকারে সমস্যায় নাজেহাল বাসিন্দারা
  • ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: দীর্ঘদিন ধরে সংকটে ভুগছে নবদ্বীপ মহাশ্মশান। সমাধানের পথ খুঁজতে নাজেহাল অবস্থা। মূলত প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাবে মৃতদেহ দাহ ও অন্যান্য পরিষেবা পরিচালনায় নানাবিধ সমস্যার হচ্ছে।

Advertisement

মহা শ্মশানঘাটে মৃতদেহ দাহ করার জন্য তিনটি বৈদ্যুতিক চুল্লি থাকলেও আপাতত দু’টি চালু রয়েছে। কাঠে দাহ করার ৬টি চুল্লির পাশাপশি রয়েছে সমাধিস্থ করার ব্যবস্থাও। এছাড়া এখানে বিশেষ ঠাণ্ডা ঘরে একইসঙ্গে চারটি মৃতদেহ সংরক্ষণেরও ব্যবস্থা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে কর্মীর সংখ্যা অত্যন্ত কম। এমনকী, শ্মশানে কোনো স্থায়ী চুল্লি অপারেটর নেই। ডোমের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় কম।
শ্মশান কর্মীদের দাবি, এখানে মোট ২৪ জন কর্মী রাখার কথা থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা মাত্র ১৮। তাঁদের মধ্যে মাত্র একজন স্থায়ী কর্মী রয়েছেন। বাকিরা সবাই অস্থায়ী কর্মী। ফলে প্রতিদিনের পরিষেবা পরিচালনায় কর্মীদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। কোনো কর্মী অনুপস্থিত থাকলে সমস্যা বাড়ে। শ্মশান কর্মীদের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।  এরই পাশাপাশি ভেঙে পড়ছে শ্মশানের প্রশাসনিক ব্যবস্থাও। এই শ্মশানের অফিসঘরে কোনো জেরক্স মেশিন নেই। সমস্যায় পড়ছেন শবদেহের সঙ্গে আসা আত্মীয়-পরিজনরা। দাহ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ডেথ সার্টিফিকেট ও আধার কার্ডের প্রতিলিপি (জেরক্স) করাতে  তাঁদের বাইরে ছোটাছুটি করতে হচ্ছে। 
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে মহাশ্মশানঘাট চত্বর নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে গোটা এলাকা আগাছা ও ঝোপঝাড়ে ভরেছে।  সমাধিক্ষেত্র, মৃতদেহ সংরক্ষণাগার ‘শান্তির নীড়’, সংলগ্ন  ফুলের বাগান এমনকি শ্মশানে যাতায়াতের মূল রাস্তার দু’ধার  জঙ্গল ও আগাছায় ভরে গিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সংকটে শ্মশানের কর্মী সংখ্যা। এই শ্মশানে ছ’জন ডোম থাকলেও মাত্র চারজন বেতনভুক্ত। বাকি দু›জন কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই বছরের পর বছর কাজ করছেন। সেক্ষেত্রে তাঁদের একমাত্র ভরসা মৃতদেহ সৎকারে আসা শ্মশানবন্ধুদের তরফে দেওয়া সামান্য কিছু অর্থ সাহায্য। প্রতিদিন গড়ে গরমকালে ৪০ টি এবং শীতের সময় প্রায় ৬০টি মৃতদেহ সৎকার হয় এখানে। নবদ্বীপ মহাশ্মশানের শিফট ইনচার্জ মানব সাহা জানান, এখানে ছ›টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। পর্যাপ্ত অপারেটর ও ডোম না থাকায় বৈদ্যুতিক চুল্লি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা হচ্ছে। কর্মী সংকটের কারণে ছুটি নেওয়াও কার্যত অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। 
নবদ্বীপের বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, শুধু মহাশ্মশানঘাটেই নয়, নবদ্বীপ পুরসভার বিভিন্ন ক্ষেত্রেই কর্মী সংকট রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। বর্তমানে নবদ্বীপ পুরসভায় প্রশাসক দায়িত্বে রয়েছেন। কোথায় কোথায় কর্মীর ঘাটতি রয়েছে, তার একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে শূন্যপদে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ