সন্দীপন দত্ত, কোচবিহার: শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবার ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ল বাণেশ্বর শিবমন্দিরে। তীব্র গরম। প্রখর রোদ উপেক্ষা করেই সকাল থেকে লাইনে মহিলারা। লাল পাড় শাড়ি, হাতে জলের ঘটি নিয়ে অপেক্ষায় তাঁরা। পাশেই ছেলেদের লাইনেও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
সন্দীপন দত্ত, কোচবিহার: শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবার ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ল বাণেশ্বর শিবমন্দিরে। তীব্র গরম। প্রখর রোদ উপেক্ষা করেই সকাল থেকে লাইনে মহিলারা। লাল পাড় শাড়ি, হাতে জলের ঘটি নিয়ে অপেক্ষায় তাঁরা। পাশেই ছেলেদের লাইনেও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো কোচবিহারের বাণেশ্বর শিবমন্দির। শ্রাবণ মাসের সোমবারগুলিতে বাবার মাথায় জল ঢালতে দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন এখানে। অসম থেকেও বহু মানুষ পুজো দিতে এখানে আসেন।
মন্দিরের পূজারীদের কথায়, ভক্তদের ভিড় এতটাই থাকে যে অনেকেই রবিবার রাত থেকে লম্বা লাইন দিতে শুরু করেন। রবিবার রাত ১২টার পরেও অনেক ভক্ত শিবের মাথায় জল ঢালেন। আলিপুরদুয়ার থেকে আসা যুবক সুব্রত ঘোষ বলেন, বাবা খুব জাগ্রত। সামনেই চাকরির পরীক্ষা। বাবার আশীর্বাদ নিতে এসেছি।
মূল মন্দিরের গর্ভগৃহে শিবের মাথায় জল ঢেলে ভক্তরা নন্দীর কানে মনস্কামনা জানান। এরপর পাশেই আরেকটি মন্দিরে বাণেশ্বর শিব, অর্ধনারীশ্বর শিব ও শিবের পুজো করছেন। বাণেশ্বর শিব মন্দিরের পূজারী দেবাশিস ঠাকুর বলেন, রাজা প্রাণনারায়ণের রাজত্বকালে ১৬৩০ থেকে ১৬৬০ সালের মধ্যে এই মন্দির পুন:প্রতিষ্ঠা করা হয়। মন্দিরের ভিতর যে শিবলিঙ্গটি রয়েছে তা মন্দির প্রতিষ্ঠার অনেক আগে থেকেই এখানে ছিল। সেখানে পুরনো একটি শিবমন্দিরও ছিল। কোনো কারণে সেই শিবমন্দির ধ্বংস হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে রাজা প্রাণনারায়ণের নজরে এলে এই মন্দির নির্মাণ করেন।
কথিত আছে, হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী মতে বাণাসুর এই শিবলিঙ্গের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কথিত আছে বাণাসুরের নাকি এক হাজার হাত ছিল। তিনি ছিলেন পাতালেশ্বর রাজা বলীর বড় ছেলে। এক পরাক্রমশালী অসুর রাজা। কিন্তু অসুর রাজা হলেও বাণাসুর ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান শিবভক্ত।
শিবরাত্রিতে এখানে মূলপুজো হয়। তবে শ্রাবণ মাসের প্রত্যেকটি সোমবার দূরদূরান্ত থেকে বহু বক্ত এখানে শিবের মাথায় জল ঢালতে আসেন।
এদিন ছিল শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় সোমবার। প্রবল রোদ্র ও গরমের মধ্যেই কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার থেকে এমনকী প্রতিবেশী রাজ্য অসম থেকেও বহু ভক্ত এখানে পুজো দিতে আসেন।
মন্দিরের সেবায়েত তথা পূজারী দেবাশিস ঠাকুর জানান, দূরদূরান্ত থেকে যেসমস্ত ভক্তরা এখানে আসেন তাঁরা রবিবার রাত ১২টার পর থেকেই শিবের মাথায় জল ঢালতে শুরু করেন। কোচবিহার দেবত্তর ট্রাস্টি বোর্ডের বড়বাবু জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, বাণেশ্বর শিব মন্দিরের যেমন একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে, তেমনি হিন্দু মতে এই মন্দিরের একটি আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। • নিজস্ব চিত্র।