স্টেরয়েড সম্পর্কে মানুষের মনে ভুল ধারণা কম নেই। সত্যিই কি স্টেরয়েড খারাপ? একেবারেই না। প্রতি মুহূর্তে মানবদেহেই স্টেরয়েড তৈরি হচ্ছে। আমাদের প্রত্যেকটি কাজের জন্য সেটি প্রয়োজন। অনেক সময় শরীরে স্টেরয়েড কম তৈরি হলে বা অনেক রোগের ক্ষেত্রে ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এটি। ১৯৩০-৩৫ সালের মধ্যেই ইউরোপে বিজ্ঞানীরা প্রথম কৃত্রিমভাবে টেস্টোস্টেরন তৈরি করেন। জার্মান বিজ্ঞানী আডলফ বুটেনান্ট ও সুইস বিজ্ঞানী লিওপোল্ড রুঝেকা যৌথভাবে ১৯৩৫ সালে কৃত্রিম এই হরমোন তৈরি করেন। এই গবেষণার জন্য ১৯৩৯ সালে নোবেল পুরস্কার পান তাঁরা। স্টেরয়েড নিয়ে বিস্তর চর্চা শুরু হয় এই সময়। এই গবেষণার উল্লেখযোগ্য এক নাম পার্সি লাভন জুলিয়ান। কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান রসায়নবিদ জুলিয়ান ১৯৪০-এর দশকে দেখলেন, বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উত্স থেকে স্টেরয়েড উৎপাদন সম্ভব। এরপর থেকে অনেক রোগের চিকিত্সায় স্টেরয়েড দেওয়া শুরু হয়।
স্টেরয়েড কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কিডনির উপরে থাকা অ্যাড্রিনালিন গ্ল্যান্ড থেকে নির্গত হয় স্টেরয়েড। এই হরমোন শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করে। সহজ ভাষায় বললে, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসকে মারার জন্য আমরা ওষুধ খাই। এই ওষুধের ফলে ক্ষতিকারক জীবাণু যেমন মারা যায়, তেমনই ভালো কোষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তৈরি হয় প্রোটিন সাবস্ট্যান্স। অতিরিক্ত মাত্রায় এমনটা হওয়া মোটেই ভালো নয়। এর জন্য দরকার পড়ে স্টেরয়েডের। এই হরমোন প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। অনেক সময় শরীরের জন্য যে পরিমাণ স্টেরয়েড প্রয়োজন, তা তৈরি হয় না। তখন স্টেরয়েড বাইরে থেকে দিতে হয়। অনেক রোগের ক্ষেত্রেও এই হরমোন উপকারী। অটো ইমিউন ডিজিজ, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অ্যাজমা, সিওপিডির মতো বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে স্টেরয়েড দেওয়া হয়। করোনার চিকিৎসায় স্টেরয়েড ব্যবহার করে সুফল পাওয়া গিয়েছিল। তবে স্টেরয়েডের বেশ কিছু অপকারিতাও রয়েছে। শরীরের ইমিউন ক্ষমতা নষ্ট করে অতিরিক্ত স্টেরয়েডের ব্যবহার। এর ফলে প্রদাহ হয়তো নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। তবে পরবর্তীতে কোনও ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস আক্রমণ করলে, শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করে না। তাই স্টেরয়েড ব্যবহারের সময় সচেতন থাকা জরুরি।



