Bartaman Logo
২৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাতারাতি উধাও ইন্দিরা ও রাজীব গান্ধীর মূর্তি, বারাসতে শুরু রাজনৈতিক তরজা

পালাবদলের বাংলায় এবার কোপ মূর্তিতে। বারাসতের হাটখোলা ইন্দিরা কলোনিতে শুক্রবার রাতারাতি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর মূর্তি ‘ভ্যানিশ’ হয়ে গেল।

রাতারাতি উধাও ইন্দিরা ও রাজীব গান্ধীর মূর্তি, বারাসতে শুরু রাজনৈতিক তরজা
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পালাবদলের বাংলায় এবার কোপ মূর্তিতে। বারাসতের হাটখোলা ইন্দিরা কলোনিতে শুক্রবার রাতারাতি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর মূর্তি ‘ভ্যানিশ’ হয়ে গেল। শুধু তাই নয়, মূর্তি থাকা জায়গায় সাদা রং করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪০ বছর ধরে পাশাপাশি থাকা দুই মূর্তি রাতারাতি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় শনিবার সকালে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। কংগ্রেসের অভিযোগ, এই ঘটনা ঘটিয়েছে বিজেপি। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি।

Advertisement

বারাসত পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাটখোলা এলাকায় রয়েছে ইন্দিরা কলোনি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নামে গড়ে ওঠা এই কলোনিতে প্রথমে বসানো হয়েছিল তাঁর মূর্তি। পরে সেখানে জায়গা হয় তাঁর পুত্র তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মূর্তিও। পাশাপাশি থাকা দুই মূর্তির সামনে বসানো ছিল তাঁদের জন্ম ও মৃত্যুর ফলকও। চার দশক ধরে ওই জায়গায় নিয়মিত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতেন কংগ্রেস কর্মীরা। ইন্দিরা ও রাজীবের জন্মদিন এবং মৃত্যুদিনে মূর্তিতে মাল্যদান করা হত। কংগ্রেসের অভিযোগ, বামফ্রন্টের ২৫ বছর এবং তৃণমূলের ১৫ বছর, এই দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে দুই মূর্তিতে কখনও হাত পড়েনি। শুক্রবার রাতের ঘটনায় সেই দীর্ঘ ইতিহাসেই ছেদ পড়ল। কংগ্রেস নেতা বিশাল সরকার বলছেন, রাতের অন্ধকারে মূর্তি দু’টি ভেঙেছে বিজেপি। শুধু তাই নয়, সেই দুটি মূর্তি বিজেপির লোকজন নিয়ে পালিয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি প্রায় একশোজন কর্মী সেখানে জড়ো হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। শনিবার বারাসত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আর রবিবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে কালা দিবস পালন হবে।
কংগ্রেসের এই অভিযোগ অবশ্য বিজেপি মানতে নারাজ। বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলেন, এই ধরনের সংস্কৃতিতে বিজেপি বিশ্বাস করে না। এর সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই। অযথা আমাদের নামে কুৎসা করা হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত করলেই সত্যি সামনে আসবে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের তিতুমির প্রেক্ষাগৃহের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামী তিতুমিরের নামে থাকা প্রেক্ষাগৃহের নাম বদলে ‘শ্যামাপ্রসাদ ভবন’ করার অভিযোগ উঠেছিল হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নজরে আসেনি বলেই অভিযোগ। আর সেই বিতর্কের আবহেই বারাসতে দুই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মূর্তি রাতারাতি উধাও হয়ে গেল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ