নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ফড়েরাজ ঠেকাতে এবার অনথিভুক্ত বর্গাদারের বা ভাগচাষিদের কাছ থেকে ১৫ কুইন্টালের বেশি ধান কিনবে না সরকার। এতদিন অনথিভুক্ত বর্গাদারদের থেকেও সহায়ক মূল্যে সর্বোচ্চ ৯০ কুইন্টাল করে ধান কিনছিল সরকার। কিন্তু সেই নিয়ম বদল হতে চলেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জেলার খাদ্য নিয়ামকদের এমনই নির্দেশ পাঠিয়েছে নবান্ন। সরকারের উপলব্ধি, কোনও কোনও সরকারি ধান ক্রয় কেন্দ্রে চাষিদের থেকে অস্বাভাবিক বেশি পরিমাণে ধান কেনা হচ্ছে। সেই ধান বিক্রি করছে অনথিভুক্ত বর্গাদার। এর পিছনে হাত রয়েছে ফড়েদের। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে নবান্ন।
কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় থাকা কৃষকদের থেকে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই সহায়ক মূল্যে ধান কিনছে রাজ্য। তবে, এর ফলে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় না থাকা কৃষকরা বা অনথিভুক্ত বর্গাদাররা বিপাকে পড়ছিলেন। খাদ্যদপ্তরের সূত্রের খবর, সেই সমস্ত কৃষকদের কথা ভেবে বছর দু’য়েক আগে তাঁদের থেকেও ধান কেনা শুরু করে রাজ্য। অনথিভুক্ত বর্গাদাররা সর্বোচ্চ ৯০ কুইন্টাল ধান সিপিসিতে বিক্রি করতে পারছিলেন। খাদ্যদপ্তরের একটি সূত্রের দাবি, কৃষকবন্ধু প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত নন এমন কৃষকরা ধান বিক্রির জন্য আবেদন করার পর তা ব্লকস্তর থেকে যাচাই করা হয়। ওই চাষি কতটা জমিতে ভাগচাষ করেছেন, তার উপর নির্ভর করছে তিনি কত পরিমাণ ধান বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অনেক সময় ঠিকমতো যাচাই করা হচ্ছে না। এই সুযোগটার ফায়দা লুটছে ফড়েরা। তারা চাষিদের থেকে কম দামে ধান কিনে মজুত করছে। তারপর কোনও ভাগচাষির নামে সেই ধান সরকারি ধান ক্রয় কেন্দ্রে সহায়ক মূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্যদপ্তরের এক কর্তা বলেন, কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় না থাকা কৃষকদের থেকে এবার ১৫ কুইন্টালের বেশি ধান কেনা হবে না। বিভিন্ন জেলার খাদ্য নিয়ামকদের এমনই বার্তা পাঠিয়েছে রাজ্য। তবে, সরকারের এই নিয়মের ফলে প্রকৃত ভাগচাষিরা সমস্যায় পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। খাদ্যদপ্তরের এক কর্তা মানছেন, মূলত ফড়েরাজ বন্ধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। কিন্তু প্রকৃত ভাগচাষিরা উত্পাদিত ধান সহায়ক মূল্যে বিক্রি করতে না পেরে ঘুরিয়ে ফড়েদের কাছেই বিক্রি করবেন। ফড়েরা সিস্টেমের মধ্যেকার নতুন কোনও ফাঁকফোকর বের করে অন্যায় সুযোগ নেবে।
খাদ্য দপ্তরের কর্তদের দাবি, চাষিদের থেকে সহায়ক মূল্যে যে ধান কেনা হয়, তা থেকে উত্পাদিত চালই সরবরাহ করা হয় রেশনে। রেশনে চাল দেওয়া কমিয়ে দিলে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রাও কমিয়ে দিতে হবে।
চলতি বছর বীরভূম জেলায় ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বীরভূমের খাদ্য নিয়ামক বাবুয়া সর্দার বলেন, জেলায় এখনও পর্যন্ত ৫৭হাজার মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। তবে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তনের ব্যাপারে এখনও কোনও সরকারি নির্দেশিকা আসেনি। ধান কেনার গতি স্বাভাবিকই রয়েছে।