নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষি সমবায় সমিতির আওতায় থাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি সামগ্রী আরও বাজারমুখী করতে উদ্যোগী রাজ্য। তাদের নতুন পরিকল্পনায়, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি খাদ্যপণ্য, বস্ত্র ও অন্যান্য হস্তশিল্প সামগ্রীর জন্য জেলায় জেলায় গড়ে তোলা হবে আধুনিক মল বা বড় শোরুম। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে তৈরি হবে কাউন্টার। যা পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ মলে রূপান্তরিত হবে।
নদীয়া জেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। জেলার সমবায় দপ্তরের অধীনে কৃষি সমবায় সমিতির আওতায় থাকা প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা সারা বছর বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য, হস্তশিল্প এবং গ্রামীণ সামগ্রী তৈরি করেন।
নদীয়া জেলার সমবায় আধিকারিক সজল রায় জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের ব্যবসার প্রসার ঘটানো এবং তাঁদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি কাউন্টার তৈরি করা হবে। পরবর্তীকালে সেগুলো মলে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এক ছাদের নীচে থাকবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি নানা পণ্য। এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সমবায় সমিতিগুলি সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক থেকে সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারবে। ঋণের কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই। তবে ঋণ পাওয়ার জন্য লাভজনক ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সহ প্রোজেক্ট রিপোর্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, যদি কোনও সমবায় সমিতি ১ কোটি টাকা ঋণ চায়, তবে তাদের কমপক্ষে ২ কোটি টাকার বার্ষিক ব্যবসা থাকতে হবে। পাশাপাশি, কোনও পুরনো আইনি জটিলতা থাকা চলবে না। ব্যবসার হিসেব ও আর্থিক দিক পরিচালনার জন্য রাজ্য সরকার নির্দিষ্ট সংস্থার ব্যবস্থাও করবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কোন কোন সমবায় সমিতির অধীনে থাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য ও সক্ষম। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদনমুখী কাজ করছেন এবং যাঁদের তৈরি সামগ্রীর বাজারে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে প্রতিটি সমবায় সমিতির থেকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির নামের তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর পর ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে প্রতিটি গোষ্ঠীর সামগ্রী তৈরির ধরন, উৎপাদনের পরিমাণ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ— পণ্যের গুণমান। এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে মূল উদ্দেশ্য একটাই— আগামী দিনে যখন রাজ্য জুড়ে বিক্রয়কেন্দ্র, কাউন্টার কিংবা পূর্ণাঙ্গ মল তৈরি হবে, তখন যেন চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে।
দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এতদিন বহু গোষ্ঠীর তৈরি খাদ্যপণ্যে এফএসএসএআই অনুমোদন না থাকায় বাজারজাত করতে সমস্যা হতো। এবার রাজ্য সরকার নিজেই তাদের রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করবে। এর ফলে পণ্যের গুণমান যেমন বাড়বে, তেমনি ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা গড়ে উঠবে।
এর পাশাপাশি, মহিলাদের কাজের সুবিধার্থে নদীয়ায় আগেই ৮টি শেড নির্মাণ করা হয়েছে, প্রতিটি শেডের আয়তন ২ থেকে ৩ হাজার স্কোয়ার ফুট। এবার সেগুলি আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরও বেশি উৎপাদনের জন্য সরবরাহ করা হবে আধুনিক যন্ত্রপাতিও।
নদীয়া জেলা পরিষদের সমবায় কর্মাধ্যক্ষ সিরাজ শেখ বলেন, রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কাছে এক নতুন দিশা খুলে দেবে। তাঁদের তৈরি পণ্য এবার
আরও বৃহৎ পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছবে। প্রতীকী চিত্র