সংবাদদাতা, বেলদা: ঐতিহ্যও ইতিহাসের বাহক মনোহরপুর রাজবাড়ি ও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতিবিজড়িত কাকরাজিত মন্দিরকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণার দাবি তুলেছিলেন দাঁতনের বিধায়ক বিক্রমচন্দ্র প্রধান। জেলাশাসকের মারফত এবিষয়ে চিঠি দিয়েছিলেন রাজ্যকে। বুধবার রাজ্যের তরফে হেরিটেজ কমিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টরের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল দাঁতন এলাকা পরিদর্শনে আসে। ঐতিহাসিক মন্দির ও স্থাপত্যগুলি ঘুরেপ্রতিনিধি দলটি রাজ্যের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে বলে জানা গিয়েছে।
গত বছরের ২২ আগস্ট জেলাশাসকের মাধ্যমে রাজ্যকে দাঁতনের এই দু’টি জায়গাকে হেরিটেজ ঘোষণার জন্য চিঠি লিখেছিলেন বিধায়ক বিক্রমচন্দ্র প্রধান। যার মধ্যে অন্যতম মনোহরপুরের প্রাচীন রাজবাড়ি ও কাকরাজিত মহাপ্রভুর মন্দির। দাঁতনের মনোহরপুর রাজবাড়ি বেশ পুরনো। ইতিহাস বলে, দাঁতনের উত্তর রায়বাড়ে ষোড়শ শতাব্দীতে প্রথম মনোহরপুরের রাজাদের আধিপত্য গড়ে ওঠে। যার পথিকৃত ছিলেন আকবরের অন্যতম সেনানি মধ্যপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ডের অধিবাসী লক্ষ্মীকান্ত উত্তর রাও তথা লছমিকান্ত উত্তর রাও। তিনি ১৫৭৫ সালে মুঘল-পাঠান যুদ্ধে মুঘল শাসক আকবরের সেনাদলে অংশ নিয়ে বীরত্ব দেখিয়েছিলেন। তাই তাঁকে ‘বীরবর’ উপাধি দেন আকবর। তবে দাঁতনের সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী এলাকায় যুদ্ধ শেষে সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশে মুগ্ধ হয়ে লক্ষ্মীকান্ত আর স্বভূমেফেরেননি। এখানেই বসতি গড়ে তোলেন। সেখান থেকেই গড়ে ওঠে রাজবংশ। স্থাপিত হয় গড়বাড়ি। পরে মনোহরপুরে উঠে আসেন তাঁরা।
অপরদিকে, কাকরাজিতেও আছে প্রাচীন মন্দির। একসময় দাঁতনের জেনকাপুরের জমিদারদের জমিদারির অন্তর্ভুক্ত ছিল এই এলাকা। তাঁদের সময় গড়ে উঠেছিল মন্দির। এখন নতুন করে বিশাল মন্দির গড়ে উঠেছে। তবে অনেকেই মনে করেন কাকরাজিত হয়ে চৈতন্যদেব পুরীধামে গিয়েছিলেন। এখানে চৈতন্যদেবের বিগ্রহ আছে। সেই ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দিতেই বিধায়কের এই প্রচেষ্টা। বিক্রমবাবু বলেন, দাঁতনের এই এলাকা দু’টির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। বহু প্রাচীন এখানকার দুই স্থাপত্য হেরিটেজের দাবি রাখে। এলাকার মানুষেরও তাইদাবি ছিল। তাকে গুরুত্ব দিতেই সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। তার জেরেই আজ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পরিদর্শক দল ঘুরে দেখে গেলেন জায়গাটি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সরকারি প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর রানা দেবদাস, বিনয় মনি সহ অন্য আধিকারিকরা। দলটি মনোহরপুরের রাজবাড়ি, কাকরাজিতে মহাপ্রভু মন্দির পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি দাঁতন ভট্টর কলেজে গিয়ে এবিষয়ে রাখা বিভিন্ন গবেষণাপত্রও খতিয়ে দেখেন। -নিজস্ব চিত্র