সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: পলিহাউস ও শেড নেট হাউস নির্মাণ করলে সর্বাধিক সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেবে রাজ্য সরকার। প্রকল্পের জন্য কোথাও ছুটতে হবে না। আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচিতে দুয়ারে সরকারের টেবিলেই আবেদন করা যাবে। বাঁকুড়া জেলা থেকে অধিক সংখ্যক আবেদন পাওয়ার জন্য উদ্যানপালন দপ্তর উদ্যোগী হয়েছে। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট আট ধরনের পলি হাউস ও শেড নেট হাউস নির্মাণের প্রকল্প রয়েছে। তাতে সবার্ধিক ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রকল্পে আবেদন করা যাবে। সরকারের তরফে সর্বাধিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে।
বাঁকুড়া জেলা উদ্যান পালন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, পলিহাউস এবং শেড নেট হাউস গাছপালাকে প্রতিকূল আবহাওয়া থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। বাষ্পীভবনের ক্ষতি কমিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাটিতে আর্দ্রতা বজায় রাখে। জেলায় সুরক্ষিত চাষের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য সরকারের তরফে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচিতে দুয়ারে সরকারের শিবিরে কৃষকরা আবেদনের জন্য ফর্ম পাবেন। তা পূরণ করে সেখানেই জমা করতে পারবেন।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, টিউব এবং ত্রিকোণাকৃতির পলিহাউস ও শেড নেট হাউসে ফল, সব্জি ছাড়াও অর্কিড, জারবেরা, কার্নেশন, অ্যানথুরিয়াম, গোপাল, চন্দ্রমল্লিকা, লিলিয়াম প্রভৃতি চাষ করা যাবে। যে কোনও আগ্রহী চাষি, কৃষি উদ্যোক্তা, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, ফার্মার্স প্রোডিউসার অর্গানাইজেশন, সর্বাধিক পাঁচ বছর পর্যন্ত জমির লিজ নেওয়া হয়েছে, এমন ব্যক্তিরা পলি হাউস অথবা শেড নেট হাউসের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপত্রের সঙ্গে জমির নথি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ভোটার কার্ড, আধার কার্ডের জেরক্স ও দু’কপি পাসপোর্ট মাপের ছবি দিতে হবে। একজন আবেদনকারী সর্বনিম্ন ৫০০বর্গমিটার এবং সর্বোচ্চ আড়াই হাজার বর্গমিটার পর্যন্ত পলি হাউস অথবা শেড নেট হাউস নির্মাণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তার জন্য মোট প্রকল্প ব্যয়ের সর্বাধিক ৫০শতাংশ পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি পাওয়া যাবে। প্রকল্প মঞ্জুর হওয়ার পর উপভোক্তাকে কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হবে। কাঠামো নির্মাণের পর ফিল্ড ভেরিফিকেশন এবং আর্থিক খরচের রসিদ দেখে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে।