Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীবাঁধের ক্ষতি রুখতে অসম্পূর্ণ বোরো বাঁধ ভাঙার নির্দেশ রাজ্যের, আরামবাগের সংস্কার কাজ পরিদর্শনে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব

গত বছরের বন্যার ক্ষত এখনও রয়ে গিয়েছে আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায়। নদী বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছিল গ্রামের পর গ্রাম। সেইসব ভাঙা অংশে কাজ করছে সেচদপ্তর।

নদীবাঁধের ক্ষতি রুখতে অসম্পূর্ণ বোরো বাঁধ ভাঙার নির্দেশ রাজ্যের, আরামবাগের সংস্কার কাজ পরিদর্শনে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব
  • ৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, খানাকুল: গত বছরের বন্যার ক্ষত এখনও রয়ে গিয়েছে আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায়। নদী বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছিল গ্রামের পর গ্রাম। সেইসব ভাঙা অংশে কাজ করছে সেচদপ্তর। বাঁধ মেরামতির কাজ খতিয়ে দেখতে এলেন রাজ্যের সেচ ও জলপথ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব মনীশ জৈন। রবিবার আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় নদী বাঁধের কাজ দেখেন তিনি। নদীতে অসম্পূর্ণভাবে কাটা হয় বোরো বাঁধ। এদিন বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সেইসব বাঁধের অংশগুলি কেটে দিতে নির্দেশ দেন তিনি। তারসঙ্গে বাঁধ নিয়ে আরও গুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এদিন মনীশবাবুর সঙ্গে ছিলেন হুগলির অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) অমিতেন্দু পাল, সেচদপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবেন্দ্র সিংহ, খানাকুল ১ এর বিডিও সুব্রত সরকার, খানাকুল ২ এর বিডিও মধুমিতা ঘোষ সহ পুলিস আধিকারিকরাও। এদিন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পুরশুড়ার মুন্ডেশ্বরী নদীতে কাঁদিপুর, খানাকুলে দ্বারকেশ্বর নদের উপর তালিত, বন্দিপুর ও মুন্ডেশ্বরীর শাখা নদীর উপর বলাইচকে নির্মীয়মাণ বাঁধের কাজ দেখতে আসেন। তারপর তিনি সেখান থেকে হাওড়া ডিভিশনের বিভিন্ন জায়গা ঘোরেন। খানাকুলে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বলেন, বর্ষার আগে জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করাই আমাদের লক্ষ্য। সেভাবেই কাজ চলছে। আরও একটু গতি বাড়ালে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে। এরজন্য ঠিকাদার সংস্থাকে বলা হয়েছে। সব জায়গায় গুণগত মান বজায় রেখে কাজ করতে বলা আছে। নদীর জলের চাপ সহ্য করে যাতে বাঁধ ঠিক থাকে সেই ভাবেই পরিকল্পনা করা হয়। সেভাবেই এগচ্ছে। ফলে এবার বর্ষায় বাঁধ ভাঙার আশঙ্কা নেই। এদিন দুপুরে খানাকুলের তালিতে পৌঁছন মনীশ জৈন। গত বছর সেখানে দ্বারকেশ্বর নদের জলের চাপে ভেঙে যায় বাঁধ। প্রায় পাঁচ-ছ’টি পাকা বাড়ি ভেসে যায়। ঘরবাড়ি হারিয়ে বাঁধে ত্রিপল খাটিয়ে আশ্রয় নেন দুর্গতরা। সেখানেও বাঁধ তৈরির কাজ চলছে। অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ম্যাপের সঙ্গে বাঁধের কাজ মিলিয়ে দেখেন। কথা বলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে। সেই সময়ে সেখানে ছিলেন হুগলি জেলা পরিষদের কো মেন্টর শেখ হায়দার আলি, স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান দীপেন মাইতি সহ অনেকেই। তাঁরা অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের কাছে অভিযোগ করেন, একাধিক জায়গায় নদী ও খাল মজে রয়েছে। সেগুলির সংস্কার প্রয়োজন। তারসঙ্গে নদীর বাঁধের পাড়ে একটি পার্ক ও ইটভাটা গড়ে উঠেছে। সেই কারণেও নদীর বাঁধ ভেঙে পড়ছে। এদিন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সেইসব এলাকা ঘুরে দেখেন। মনীশবাবু তালিত থেকে বাঁধের পাড়ে পাড়ে গুজরাত, বন্দিপুর ও ময়াল এলাকা পরিদর্শন করেন। বোরো চাষের জন্য নদীতে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। চাষ শেষ হলেও বোরো বাঁধের দু’ প্রান্তে বেশিরভাগ অংশ ভাঙা হয়নি। তার জেরে বর্ষায় ফের বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেন জন প্রতিনিধিরা। নিজের মোবাইলে তার ছবি তোলেন মনীশবাবু। পাশাপাশি তা দ্রুত ভেঙে ফেলার ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। সেখানেই অতিরিক্ত জেলাশাসক বোরো বাঁধ ভেঙে ফেলা হবে বলে জানান। তবে তালিত এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা মনীশবাবুর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে সুযোগ না পাওয়ায় হতাশ হন।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ