Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ব্রাহ্মণী নদীর ভাঙা বাঁধ পরিদর্শন করলেন রাজ্যের আধিকারিকরা

বুধবার বিকেলে নলহাটিতে ব্রাহ্মণী নদীর ভাঙা বাঁধ পরিদর্শন করলেন রাজ্যের শিল্পদপ্তরের সচিব বন্দনা যাদব ও অর্থদপ্তরের সচিব দেবীপ্রসাদ করণম।

ব্রাহ্মণী নদীর ভাঙা বাঁধ পরিদর্শন করলেন রাজ্যের আধিকারিকরা
  • ১৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বুধবার বিকেলে নলহাটিতে ব্রাহ্মণী নদীর ভাঙা বাঁধ পরিদর্শন করলেন রাজ্যের শিল্পদপ্তরের সচিব বন্দনা যাদব ও অর্থদপ্তরের সচিব দেবীপ্রসাদ করণম। তাঁরা নদী তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন। ছিলেন রামপুরহাটের মহকুমাশাসক সৌরভ পাণ্ডে, স্থানীয় বিডিও সহ প্রশাসনের কর্তারা। গ্রামে জল ঢোকায় প্রচুর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।
বীরভূম ও লাগোয়া ঝাড়খণ্ডে অতিবৃষ্টি ও বৈধরা ব্যারাজের ছাড়া জলে  ব্রাহ্মণী নদী ফুলেফেঁপে উঠেছে। জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার বিকেলে নলহাটি-১ ব্লকের রামপুর ও রানিনগরের মাঝে ৫০মিটার নদীবাঁধ ভেঙে যায়। হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে বিঘার পর বিঘা জমি জলের তলায় চলে যায়। বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মকরমপুর, কানুপুর, রদিপুর সহ তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে পুলিস-প্রশাসনের কর্তারা পৌঁছন। রাতে এলাকা পরিদর্শনে আসেন জেলাশাসক বিধান রায়। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সারারাত প্রশাসনের লোকজন গ্রামগুলিতে নজরদারি চালান। মকরমপুর, রানিনগর, কানুপুর গ্রামের নিচু এলাকায় জল ঢুকে যায়। বহু পরিবার গৃহবন্দি হয়ে পড়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়। রাতেই এলাকায় পুলিসের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপকে মোতায়েন করা হয়। পুলিসের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় স্পিডবোট নামানো হয়। বহু জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। রদিপুর থেকে মকরমপুর যাওয়ার পাকা রাস্তা এবং কানুপুর যাওয়ার রাস্তা এখনও জলের তলায় রয়েছে। সেখানে রাস্তা সহ দুধারের বিস্তীর্ণ এলাকার জমিতে হাঁটুসমান জল রয়েছে। কয়েকটি মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ব্যারাজ থেকে জল না ছাড়ায় এদিন সকাল থেকেই পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। ভাঙা বাঁধ দিয়ে জল ঢোকা অনেকটা কমে যায়। সকাল থেকেই সেচদপ্তর বাঁধ মেরামতির কাজে হাতে লাগায়। 
এদিন সকাল থেকেই মকরমপুর গ্রামে পুলিসের পক্ষ থেকে ত্রাণশিবির খোলা হয়। সেখানে বহু পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুপুরে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আসাদুজ্জামান গ্রামের বাসিন্দাদের ত্রিপল, শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেন।
বিকেলের দিকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকা পরিদর্শনে আসেন নবান্নের দল। তাঁরা প্রথমে ভাঙা বাঁধ পরিদর্শনে আসেন। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের কাছ থেকে কেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানাতে চান। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বলেন, নবান্ন থেকে আসা রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের বলেছি, ১২৮ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বাঁধ মজবুত করার জন্য সেচদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা। তাঁরা রদিপুর গ্রামে এসে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিডিও সৌরভ মেহেতা বলেন, নবান্নের টিম জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি বাঁধ মেরামতির কাজ দেখে গেল। মানুষজন ত্রাণসামগ্রী পাচ্ছেন কিনা দেখেন। জমি থেকেও জল নামছে। নদীর জলস্তরও কমেছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।

Advertisement

  নলহাটির ব্রাহ্মণী নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত বিস্তীর্ণ চাষের জমি। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ