নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: প্রায় দু’কোটি টাকার আধুনিক মেশিন বসল বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত তহবিল থেকে হাসপাতালকে ওই টাকার মেশিনপত্র কিনে দিয়েছে। বুধবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষের মধ্যে মেশিন হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এদিন দুপুরে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লোকপুর ক্যাম্পাসে এই উপলক্ষ্যে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বাঁকুড়া মেডিক্যালের অধ্যক্ষ পঞ্চানন কুণ্ডু, এমএসভিপি অর্পণকুমার গোস্বামী ও পাওয়ার গ্রিডের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। আধুনিক মেশিন তথা যন্ত্রপাতির সাহায্যে উন্নত শল্য চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয় আরও নিখুঁত হবে বলে মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই ওইসব মেশিন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে বসে গিয়েছে। কিছু মেশিনে কাজও শুরু হয়েছে।
অধ্যক্ষ বলেন, আল্ট্রসোনোগ্রাফির স্ক্যান মেশিন, ক্যামেরাযুক্ত এন্ডোস্কোপ, এইচডি মনিটর সহ আধুনিক চিপ ক্যামেরাযুক্ত অপারেটিং ল্যাপ্রোস্কোপ সহ মোট ১০টি মেশিন হাপাতালে বসেছে। পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ মেশিনগুলি আমাদের কিনে দিয়েছে। তিন থেকে ৪২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামের মেশিন রয়েছে। সেগুলি প্রসূতি, চক্ষু, নাক-কান-গলা সহ অন্যান্য বিভাগে বসেছে। ওইসব মেশিনের সাহায্যে রোগ নির্ণয় অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি অপারেশনও নিখুঁত হবে। কারণ যে কোনও চিকিৎসার আগে ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গের সংশ্লিষ্ট জায়গা সম্পর্কে জানা জরুরি। পাশাপাশি অপারেশনের মাধ্যমে শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ নিখুঁতভাবে বাদ দেওয়া গেলে রোগ নিরাময় অনেক সহজ হয়। পরবর্তীকালে সংশ্লিষ্ট জায়গা থেকে নতুন করে কোনও উপসর্গও দেখা দেয় না। ক্যামেরাযুক্ত ওই ধরনের আধুনিক মেশিন এর আগে বাঁকুড়া মেডিক্যালে ছিল না। ফলে রোগীদের অন্যত্র রেফার করা হতো। এবার থেকে আমরা বিনামূল্যে রোগীদের আরও উন্নতমানের পরিষেবা দিতে পারব।
পাওয়ার গ্রিডের জেনারেল ম্যানেজার (এইচআর) প্রশান্ত কুমার বলেন, রোগীদের সুবিধার্থে বাঁকুড়া মেডিক্যালের পাশাপাশি রাজ্যের আরও বেশকিছু হাসপাতালকে আমরা মেশিন কিনে দিচ্ছি।
উল্লেখ্য, জঙ্গলমহলের মধ্যে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসার মান অনেকটাই উন্নত হয়েছে। গত কয়েকবছরে হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি ব্লক সহ অন্যান্য বিভাগ চালু হয়েছে। আশাপাশের জেলা এমনকী ভিন রাজ্য থেকেও বাঁকুড়া মেডিক্যালে অনেকে চিকিৎসা করাতে আসেন। তবে হাসপাতালের অনেক মেশিন পুরনো হয়ে গিয়েছে। ওইসব মেশিন তথা যন্ত্রপাতির সাহায্যে আধুনিক চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মেশিনগুলির আধুনিকীকরণের প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। একলপ্তে ১ কোটি ৮৮ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকার মেশিন হাসপাতালে আসার ফলে সেই ঘাটতি অনেকটাই মিটবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে। আগামী দিনে অন্যান্য সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকল্প থেকে যাতে হাসপাতালকে আধুনিক মেশিন দেয়, সেব্যাপারে চেষ্টা চলছে বলে এমএসভিপি জানিয়েছেন।