Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে গ্রন্থাগারগুলির অত্যাধুনিক উদ্যোগ, মিলবে ইন্টারনেট পরিষেবা

বইপোকারা আজও সমানভাবে বিদ্যমান। ডিজিটাল যুগে বই পড়ার প্রতি আগ্ৰহ কমছে বলা হচ্ছে। বাস্তবচিত্র অবশ্য অন্য রকম। ডিজিটাল মিডিয়া বই বিপণনের সহজ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

ঝাড়গ্রামে গ্রন্থাগারগুলির অত্যাধুনিক উদ্যোগ, মিলবে ইন্টারনেট পরিষেবা
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বইপোকারা আজও সমানভাবে বিদ্যমান। ডিজিটাল যুগে বই পড়ার প্রতি আগ্ৰহ কমছে বলা হচ্ছে। বাস্তবচিত্র অবশ্য অন্য রকম। ডিজিটাল মিডিয়া বই বিপণনের সহজ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সমাজ মাধ্যম বইয়ের রিভিউ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঝাড়গ্রামের গ্ৰন্থাগারগুলি আধুনিক মানের করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম শহরের রঘুনাথপুর এলাকায় ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সরকারি গ্ৰামীন লাইব্রেরির নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। গ্ৰন্থাগারে এবার ওয়াইফাই ফ্রি নেট পরিষেবা মিলবে। ঝাড়গ্রাম জেলা শহর হবার পর আধুনিক মানের লাইব্রেরী গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছিল। অর্থের বরাদ্দ হতেই গ্ৰামীন লাইব্রেরীর নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী বছরেই বইপ্রেমীদের জন্য গ্রন্থাগারটি খুলে দেওয়া হবে। তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি করে বইমুখী করতে আধুনিক মানের পরিষেবা দেওয়া হবে। স্কুল ও কলেজগুলির সঙ্গে সংযুক্তিকরণের পরিকল্পনা চলছে। আলাপনী মহাকুমা লাইব্রেরীর সঙ্গে জেলার সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পঠনপাঠন পরিষেবার আদানপ্রদানের সংযুক্তি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী সায়েন্সের পড়ুয়ারা এখানে এসে পড়াশুনানা করছেন। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও যাতে লাইব্রেরীতে এসে পড়াশোনা করে তার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। রুরাল লাইব্রেরী ঝাড়গ্রামের অন্যতম সাংস্কৃতিক চর্চা ও পঠনপাঠনের কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে। পঠনপাঠনের আধুনিক পরিষেবা মিললেই পাঠকরা নতুন করে পাঠাগারমুখী হবেন। পুঁথির যুগ পেরিয়ে ছাপা বইয়ের যুগের সূচনার পর সকল স্তরের মানুষের হাতে হাতে বই পৌঁছে গিয়েছিল। ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে লেখালেখি ও অন্যদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেবার সুযোগ করে দিয়েছে। দুই দশক আগেও শহর ও জেলার শিক্ষিত মানুষ পত্রপত্রিকা বার করতেন। বর্তমানে বই প্রকশনী সংস্থাগুলি প্রকাশিত হওয়া নতুন বই ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার করছেন। চোখের সামনে দেশ বিদেশের প্রকশিত নতুন বইপত্র হাজির হয়ে যাচ্ছে। সমাজমাধ্যমের বিভিন্ন গ্ৰুপে প্রথিতযশা লেখক থেকে তরুণ লেখকের গল্প, প্রবন্ধ দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ছাপা বইয়ের সঙ্গে ডিজিটালাইজড বইপত্র পাওয়া যাচ্ছে। আগ্ৰহী পাঠকের সেইসব বইপত্রের সন্ধনে গ্ৰন্থাগারে এসে খোঁজ নিচ্ছেন। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় বইপত্রের আলোচনা খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অডিওতে গল্প শোনার পর আগ্ৰহী পাঠক ছাপা বই পড়ে দেখতে চাইছেন। জেলা গ্ৰন্থাগার দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে পঠনপাঠনের ধরণ বদলে দিয়েছে। আধুনিক মানের পরিষেবার সুযোগ পেলে গ্ৰন্থাগারে পাঠকদের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। ঝাড়গ্রাম শহরের রুরাল গ্ৰন্থাগারকে আধুনিক মানের গড়ে তোলা হবে। আলাপনী মহকুমা গ্ৰন্থাগারের গ্ৰন্থাগারিক অদিতি শিট মন্ডল বলেন, শহরের মহকুমা লাইব্রেরীতে গল্পের বই নিতে বহু পাঠক আসেন। কর্মসূত্রে যারা এই জেলায় থাকেন বিশেষ নিয়ম মেনে তাদের বই দেওয়া হয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্ৰন্থাগারগুলিকে আধুনিকিকরণ করার উদ্যোগ শুরু হয়ে গিয়েছে। জেলা গ্ৰন্থাগার আধিকারিক বলেন, ঝাড়গ্রামে সরকারী রুরাল লাইব্রেরীর কাজ শেষের মুখে। আমরা আশাবাদী সামনের বছর গ্ৰন্থাগার চালু হয়ে যাবে। এই গ্ৰন্থাগারের সঙ্গে জেলার অন্য গ্ৰন্থাগারেও ফ্রি ওয়াইফাই পরিষেবা ও কম্পিউটার থাকবে। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ