সুখেন্দু পাল, কালনা: লোকসভা নির্বাচনে শাসক দল কালনা শহরে ধাক্কা খেয়েছিল। জমি উদ্ধারের জন্য রাজ্য নেতৃত্ব বারবার শহরের নেতাদের বার্তা দেয়। কিন্তু, তারপরেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। শহরের তিন গোষ্ঠীর মধ্যে টানাপোড়েন বেড়েই চলছে। এখন সবপক্ষই টিকিট পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে। রাজ্য নেতৃত্বের কানেও বিষয়টি গিয়েছে। তারা মোটেও এখানকার নেতাদের কাজে সন্তুষ্ট নয়। দলীয় সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। নির্দেশমতো এসআইআরের কাজেও এই শহর তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। কয়েকদিন আগেই শহরে ওয়ার রুম পরিদর্শনে এসেছিলেন রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি আরও ভালোভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে যান।
কালনা পুরসভার বাইরে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল বর্ষীয়ান এক তৃণমূল কর্মীর সঙ্গে। তিনি বলেন, এখানকার কয়েকজন নেতার ঔদ্ধত্য চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁদের জনসংযোগ ক্ষমতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ওই নেতারা প্রথম সারিতে থাকায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া, কয়েকজন নেতার আর্থিক উত্থানও নজরকাড়ার মতো। একসময় তাঁরা অন্যের বাইকের পিছনে ঘুরতেন। এখন দামি চারচাকা গাড়ির সাওয়ারি তাঁরা। কেউ কেউ আবার কালনা শহরেই থাকেন না। কখনও বর্ধমান, আবার কখনও কলকাতায় গিয়ে সময় কাটান। শহরে দক্ষ নেতা না থাকার কারণেই সংগঠন পিছিয়ে যাচ্ছে।
কালনা শহর লাগোয়া সাতগাছি পঞ্চায়েত। এখানকার বিভিন্ন গ্রামে উড়ছে বিজেপির পতাকা। শহরেও কয়েকদিন আগে বিজেপি টোটো চালকদের নিয়ে ডেপুটেশন দিয়েছে। তারা শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অথচ শাসক দলের কয়েকজন নেতা উল্টো পথে হাঁটছেন। দলের কর্মীরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে এসে বহু পরিবার কালনা শহরে বসবাস করছে। তাঁদের অনেকেই পুরসভা বা লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিলেন। এসআইআর হওয়ায় তাঁরা আতঙ্কে রয়েছেন। দক্ষ নেতৃত্বের অভাবে শহরের এই সুযোগও নেতারা কাজে লাগাতে পারছেন না। বিজেপি নেত্রী শম্পা গায়েন বলেন, এসআইআরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটা আমরা মানুষকে বোঝাতে পেরেছি। আমাদের লাগাতার আন্দোলন চলছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, কোথাও বিজেপি নেই। বিধানসভা নির্বাচনে কালনা শহর থেকেও আমরা লিড পাব।
তৃণমূল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই শহরের নেতাদের নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না রাজ্য নেতৃত্ব। কয়েকদিন আগে পুরসভার চেয়ারম্যানকে সরিয়ে অন্যান্যদের বার্তা দেওয়া হয়েছে। এক নেতা বলেন, যাঁরা ঔদ্ধত্য বা অহঙ্কার দেখাচ্ছেন, তাঁরা ভুল করছেন। দলের হাত মাথা থেকে সরে গেলে তাঁরা মনের কথা বলারও লোক খুঁজে পাবেন না। শহরে প্রতিটি ওয়ার্ডের রিপোর্ট রাজ্য নেতৃত্বের কাছে রয়েছে। কোন নেতা কোথায় যাচ্ছেন, কী করছেন, সেসব তথ্যও তাঁদের কাছে রয়েছে।