নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শেষ মুহূর্তে কেতুগ্রাম, গলসির মতো কয়েকটি এলাকায় ধান জমিতে ভাইরাসের আক্রমণ দেখা যায়। এছাড়া এবার ধান চাষে অন্য কোনও সমস্যা হয়নি। সময় মতো বৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃতি অনুকূল ছিল। তাই এবার ফলন ভালো হবে ধরে নিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলায় ধান কেনার টার্গেট বাড়ালো খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর। জেলায় এবার ৮ লক্ষ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনা হবে। মোট ৩৩৯টি কেন্দ্রে চাষিরা ধান বিক্রি করতে পারবেন। তারমধ্যে সিপিসি রয়েছে ৭৯টি। এছাড়া সমবায় সহ আরও ২৬০টি সংস্থা জেলা থেকে ধান কিনবে। চাষিদের দাবি, মোবাইল ক্যাম্পের সংখ্যা আরও বাড়ানো হোক। গ্রাম থেকে দূরে গিয়ে এই সময় ধান বিক্রি করার সময় কৃষকদের নেই। আলু চাষের জন্য জমি তৈরির প্রস্তুতি চলছে। এই সময় মোবাইল ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানো না হলে ফড়েরা ফায়দা তুলবে। তারা কৃষকদের বাড়ি থেকে ধান কিনছে। দাম কম পেলেও ঝক্কির ভয়ে অনেকেই তাদেরকেই ধান বিক্রি করছে।
খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার মোবাইল ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ক্রয়কেন্দ্রগুলি থেকে ফড়েরা যাতে ফায়দা তুলতে না পারে সেদিকে নজর দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় তারা চাষিদের থেকে কম দামে ধান কিনে তা বেশি দরে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রগুলিতে বিক্রির চেষ্টা করে। সেটা যাতে না হয় তার জন্য যারা ধান বিক্রি করতে আসবে তাদের নথি খতিয়ে দেখা হবে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, ধান বিক্রি করতে চাষিদের সমস্যা হলে তাঁরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করতে পারেন। তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গলসির চাষি শম্ভু পাত্র বলেন, ক্যাম্পের সংখ্যা আরও বাড়ানো দরকার। সেটা হলে সরকারের উদ্দেশ্য পূরণ হবে। বাড়ি থেকে ধান নিয়ে গিয়ে তা কয়েক কিলোমিটার দূরে বিক্রি করা সমস্যার। সঙ্গে সঙ্গে গিয়েই ধান বিক্রি করা যায় না। অপেক্ষা করার পর ক্যাম্পে ধান দেওয়া যায়। এতটা সময় চাষিরা ক্যাম্পে দিতে চায় না।
জেলা প্রশাসনের আর এক আধিকারিক বলেন, গত বছর ধান বিক্রি করা নিয়ে চাষিদের থেকে খুব বেশি অভিযোগ পাওয়া যায়নি। খোদ জেলাশাসক ক্যাম্পগুলিতে ঘুরে সরাসরি চাষিদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এবারও তেমনটাই হবে। চাষিদের থেকে কোথাও অতিরিক্ত ধান নেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের ফুড কন্ট্রোলার শেখ আলিমুদ্দিন বলেন, জেলার প্রতিটি এলাকাতেই ধান কেনা শুরু হয়েছে। চাষিরা বলেন, আর কয়েক দিন পর থেকে ধান বিক্রির প্রবণতা বাড়বে। এখন ধান কাটার কাজ চলছে। তা শেষ হলেই বেশি সংখ্যক চাষি ক্যাম্পে যেতে শুরু করবেন।