Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভর্তিতে রাজ্যের নির্দেশিকা ব্রাত্য, রানাঘাটে বিক্ষোভ, প্রাথমিক পাশ পড়ুয়াদের উচ্চবিদ্যালয়ে সুযোগ না দেওয়ার নালিশ

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হাইস্কুল লাগোয়া প্রাথমিকের পড়ুয়াদের পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। কিন্তু দিনের পর দিন ধরে এই নিয়ম নাকি মানা হচ্ছে না রানাঘাটের পাল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়।

ভর্তিতে রাজ্যের নির্দেশিকা ব্রাত্য, রানাঘাটে বিক্ষোভ, প্রাথমিক পাশ পড়ুয়াদের উচ্চবিদ্যালয়ে সুযোগ না দেওয়ার নালিশ
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হাইস্কুল লাগোয়া প্রাথমিকের পড়ুয়াদের পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। কিন্তু দিনের পর দিন ধরে এই নিয়ম নাকি মানা হচ্ছে না রানাঘাটের পাল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়। কেন স্কুলেরই প্রাথমিক শাখা থেকে চতুর্থ শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও শিশুরা হাই স্কুলে পড়ার সুযোগ পাবে না? এই প্রশ্ন তুলে মঙ্গলবার বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। এদিন দুপুরে প্রায় জনা পঞ্চাশেক অভিভাবকের বিক্ষোভে স্কুল চত্বরে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে রানাঘাট থানার পুলিশ স্কুলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশি আশ্বাসেই ওঠে বিক্ষোভ। 

Advertisement

বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের অভিযোগ, তাঁদের সন্তানরা ছোটোবেলা থেকেই পড়াশোনা করছে পাল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় লাগোয়া প্রাথমিক স্কুলটিতে। ফলে পঞ্চম শ্রেণিতে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় ওই ছেলে, মেয়েদের অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। কিন্তু সেই সরল নিয়মের তোয়াক্কা না করে অন্য স্কুলের পড়ুয়াদের ভর্তি নেওয়ার মতো জটিল প্রক্রিয়ায় ভর্তি নেওয়া হচ্ছে খুদে পড়ুয়াদের। ফলে রানাঘাট শহরের প্রাচীনতম এই বাংলা মাধ্যম স্কুলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রাথমিকের ওই পড়ুয়ারা।‌ যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পাল চৌধুরী হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুস্মিত নারায়ণ কুণ্ডু বলেন, যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা মোটেও সত্যি নয়। প্রতিবছর প্রাথমিক স্কুল থেকে আসা পড়ুয়ার সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। যেহেতু পাল চৌধুরী রানাঘাট শহরের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত স্কুল, তাই এখানে ভর্তি হওয়ার প্রতি বিরাট চাহিদা রয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতেই আমাদের প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়া নয় এমন অনেকেও অসাধু পন্থা অবলম্বন করে ভর্তির চেষ্টা করছে। আমরা সেই বিষয়টিকেই আটকাতে তৎপর। 
যদিও উচ্চ বিদ্যালয়ের তরফে তোলা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁদের পাল্টা দাবি, বাইরের ছাত্রদের নয়, একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়া যারা তাদেরকেই উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পাঠানো হচ্ছে। সেই সংখ্যাটি এমন  কিছু বেশি নয়।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিকের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক রানাঘাট শহর চক্র গৌরব্রত সরকার বলেন, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা রয়েছে ভর্তি নিতে হবে। আর সেটা নিয়েই যে গন্ডগোল হয়েছে তা আমি শুনেছি। যেহেতু আমি প্রাথমিকের বিদ্যালয় পরিদর্শক, তাই এখানে আমার খুব একটা করণীয় কিছু নেই। আমি উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ও রানাঘাটের এডিআই-এর সঙ্গে কথা বলছি। 
অন্যদিকে সূত্রের খবর, বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের তরফেও উচ্চ বিদ্যালয়ের অবর পরিদর্শকের কাছে একটি গণস্বাক্ষরিত অভিযোগ জমা পড়েছে। আপাতত সেটি পর্যালোচনার তালিকায় রয়েছে শিক্ষা মহকুমা দপ্তরের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ