নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: জল্পনা ছিল। রায়গঞ্জ পুরসভায় নতুন করে বোর্ড গঠনের ছ’দিনের মাথায় সেটাই বাস্তবায়িত হল। বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে রায়গঞ্জের পুরপ্রশাসক বোর্ডে বদল করল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। বোর্ডের তিন সদস্যকে অপসারিত করে এককভাবে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সন্দীপ বিশ্বাসকে। আর এনিয়ে ব্যাপক শোরগোল শহরের রাজনৈতিক মহলে। মেলানো হচ্ছে একাধিক সমীকরণ।
প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য না করলেও মাসখানেক ধরে পুরসভা ঘিরে বিভিন্ন বিতর্ক বিশ্লেষণ করে ওয়াকিবহাল মহলে দাবি, এবার রায়গঞ্জ পুরসভা ‘দখল’ করলেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। এর জন্য কিছুদিন ধরেই দলের উপরমহলে চাপ সৃষ্টি করছিলেন তিনি। পুরবোর্ডের সদস্যরাও আগে সে কথা বলেছিলেন। বোর্ডের সদস্যদের বক্তব্য ছিল, পুরবোর্ড বিধায়কের বিভিন্ন দাবি মেনে নেয়নি। তাই তিনি নেপথ্যে থেকে দলের উপর চাপ তৈরি করেছিলেন। এর কিছুদিন পরই গত সপ্তাহে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর একটি নির্দেশিকায় প্রশাসক বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান অরিন্দম সরকারকে সরায়। বোর্ডের সদস্য করা হয়েছিল তাঁকে। এর ছ’দিনের মাথায় পুরবোর্ডের তিন সদস্যকেই সরানো হল। এককভাবে পুরবোর্ডের যাবতীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সন্দীপকে। ফলে পুরসভায় রইল না কোনও প্রশাসক বোর্ড।
প্রশাসক বোর্ডের বিদায়ী সদস্য অরিন্দম সরকার বলেন,ভালো কিছু চিন্তা করেই পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর হয়তো এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আমি দলের দীর্ঘদিনের কর্মী। দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাচ্ছি।
যদিও পুরবোর্ডের রদবদলের পিছনে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ‘অতিসক্রিয়তার’ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিধায়ক কৃষ্ণ। বলেন, নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকি। আমার তরফে দলের উপর কোনও চাপ তৈরি করা হয়নি। দলে দায়িত্বশীল অনেকে আছেন, তাঁরাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। এই বিজ্ঞপ্তি সম্পূর্ণ রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের। আমার কোনও হাত নেই। আমি বোর্ডের কাছে কখনই কোনও দাবি জানাইনি। এদিকে এককভাবে দায়িত্ব পাওয়ার পর সন্দীপ কোনও মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন। তিনি বলেন, রায়গঞ্জের বাইরে আছি। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নতুন নোটিফিকেশনের ব্যাপারে কিছু জানি না। রায়গঞ্জ ফিরেই এব্যাপারে বলতে পারব।
অপসারিত পুর প্রশাসক বোর্ডের আরও দুই সদস্য প্রদীপ কল্যাণী ও সাধন কুমার বর্মন কোনও মন্তব্য করতে চাননি। কিছুদিন আগে থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে পুর প্রশাসক বোর্ডের সঙ্গে বিধায়কের দ্বন্দ্ব বেধেছিল। যা নিয়ে প্রকাশ্যেই দু’পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিল। তখনই প্রশাসক বোর্ডের তরফে সন্দীপ বিশ্বাস, অরিন্দম সরকাররা বিধায়কের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। তাঁরাই বলেছিলেন, রায়গঞ্জ পুরপ্রশাসক বোর্ড দখলের চেষ্টা করেছিলেন বিধায়ক। যদিও এদিন অপসারণের পর কেউ কোনও বিতর্কিত মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছেন।
অন্যদিকে, ডালখোলা পুরসভার চেয়ারম্যান পদেও রদবদল হয়েছে এদিন। সরিয়ে দেওয়া হল স্বদেশ সরকারকে। নতুন চেয়ারম্যান হলেন পুরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার সুজনা দাস। তৃণমূল সূত্রে খবর, কালিয়াগঞ্জ পুরসভাতেও শীঘ্র চেয়ারম্যান বদল হতে পারে।