সংবাদদাতা, কল্যাণী: বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই তৃণমূল পরিচালিত চাকদহ পুরসভার নির্বাচিত পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হল। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে ইতিমধ্যে এই বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে চাকদহ পুরসভাকে। সেই সঙ্গে কল্যাণীর মহকুমা শাসককে প্রশাসক হিসেবে চাকদহ পুরসভার দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, চাকদহ পুরসভার বিভিন্ন পরিষেবার বেহাল দশা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ পৌঁছেছিল পুরদপ্তরের কাছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। ভেঙে পড়েছে জঞ্জাল অপসারণের সম্পূর্ণ পরিকাঠামোই। বেশ কিছু রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। জল নিকাশির ব্যবস্থাও তথৈবচ। এরকম নানা অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২১ নভেম্বর শো-কজ করা হয় চাকদহের পুরবোর্ডকে। সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়। নির্দেশ মতো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরসভা সেই চিঠির উত্তর দেয় বলেও পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছিল। পুরসভার দাবি ছিল, জল, গ্যাস এবং স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টের জন্য পাইপলাইন বসানোর কাজ চলছে। তাই শহরের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা খুঁড়তে হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। সেই কাজ শেষ না হওয়ায় একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে এই যুক্তিতে তে চিঁড়ে ভেজেনি, তা পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট হল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
এই পুরসভায় রয়েছে ২১টি ওয়ার্ড। শহরে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। নাগরিক পরিষেবা নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি কাউন্সিলারদের মধ্যে দ্বন্দ্বও প্রকট হয়ে উঠেছিল চাকদহে। বোর্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য এটিও অন্যতম কারণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
চাকদহ পুরসভার ‘বিদায়ী’ চেয়ারম্যান অমলেন্দু দাস বলেন, ‘আমি দলের অনুগত সৈনিক। দল যেটা ঠিক মনে করেছে, সেটা করেছে। আপাতত এটুকুই বলবো। পরে প্রয়োজন হলে আরো বলবো।’ পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শুভঙ্কর সিংহ বলেন, ‘সরকারের এই নির্দেশের পর আমাদের কাউন্সিলার পদ আর রইল না। তবে আমরা সব সময় দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে রয়েছি।’
সিপিএমের চাকদহ এরিয়া কমিটির সদস্য তথা শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পিন্টু সিংহ বলেন, ‘এই পুরবোর্ড মানুষের জন্য কোনও কাজ করতে পারেনি। শহরটাকে একটা ডাস্টবিনে পরিণত করেছে।’ কল্যাণীর মহকুমা শাসক অভিজিৎ সামন্ত বলেন, ‘চাকদহ পুরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ এসেছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করতে হবে।’