Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রাজ্য সরকার

ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত সামশেরগঞ্জ সহ ধুলিয়ানে জনজীবন স্বাভাবিক করতে মরিয়া রাজ্য সরকার।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রাজ্য সরকার
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত সামশেরগঞ্জ সহ ধুলিয়ানে জনজীবন স্বাভাবিক করতে মরিয়া রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) দীননারায়ণ ঘোষ রবিবার বলেছেন, ‘ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সর্বদা রয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে একটি পরিবারের যা যা প্রয়োজন, সবই দেওয়া হচ্ছে।  যাঁদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র, স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেট সব নানা ডকুমেন্টস নষ্ট হয়েছে, সেগুলি নতুনভাবে তৈরি করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ জানা গিয়েছে, ডকুমেন্টস তৈরির জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিশেষ ক্যাম্প করবে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই আবেদন গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। জমা পড়েছে ৮৮টি আবেদন। সেগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

Advertisement

জেলা প্রশাসনের ভূমিকায় অনেক স্বস্তিতে সামশেরগঞ্জের আম মানুষজন। ভয়ভীতি সরিয়ে হাটে-বাজারে যাওয়া শুরু করেছেন। তবে তাঁদের আক্ষেপ, অনেকেই এলাকায় আসছেন। রাজ্যপাল থেকে শুরু করে জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা। কিন্তু বাসিন্দাদের দুরাবস্থা নিয়ে কেউই কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করছেন না। একমাত্র জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা সর্বক্ষণ পাশে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ক’দিন ধরেই অশান্তি ছড়ানো এলাকাগুলিতে প্রশাসনের তরফে কমিউনিটি কিচেন খোলা হয়েছে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকেদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রশাসনের তরফে। বাড়িতে বাড়িতে চাল, ডাল, নুন থেকে শুরু করে তোষক, বালিশ সহ নানা সামগ্রী ত্রাণ শিবিরের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছি। তাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত দেখা করছি। সব রকমভাবে সাহায্য করছি। এদিনও জাফরাবাদের মৃত বাবা-ছেলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে যথাসম্ভব সাহায্য করছি।’ 
এদিন সকালে ধুলিয়ানের গঙ্গার ঘাট ছিল বেশ জমজমাট। পাশেই বাজার। চায়ের কাপে চুমুক আর আড্ডা চলছে নিজেদের মধ্যে। সর্বস্তরের মানুষ হাজির। কান খাঁড়া রাখলেই শোনা যাচ্ছে, সামশেরগঞ্জ  যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক হোক। সবার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি, যারা অশান্তি ছড়িয়েছে, লাগামছাড়া তাণ্ডব  চালিয়েছে তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। জাফরাবাদের এক বাসিন্দা বলছিলেন, ‘এক সপ্তাহ হয়ে গেল। এখনও ওই দিনের কথা ভাবলে শিউরে উঠি। এলাকায় প্রচুর পুলিস ও বিএসএফ রয়েছে। শান্তি ফিরেছে। রাজ্যপাল এসেছিলেন। মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরাও এসেছিলেন। সবাইকে তো বললাম ঘটনার কথা। আমাদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছি। দোষিদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করার কথা বলেছি। আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আদৌ সেসব কার্যকর হবে কিনা বুঝতে পারছি না।’
বাজার করতে এসেছিলেন বেতবোনার এক বাসিন্দা। তিনিও বলছিলেন, ‘রাজ্যপাল প্রথমে আমাদের এখানে না এসে চলে যাচ্ছিলেন। আমরা বিক্ষোভ জানাতেই বাধ্য হয়ে এসেছেন। আমাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। শুধু আশ্বাস মিলেছে। জানি না, কতটা কী করবেন।’ এর আগেও রাজ্যপাল এবং জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছেন। সরেজমিনে এসে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে একইভাবে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ।  বিজেপি বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী অনেককিছুই বলে গিয়েছেন। তাঁর কথায় ভরসা রাখতে পারছেন না বাসিন্দাদের কেউই। এদিন জাফরাবাদে মৃত হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূল সাংসদ ও বিধায়কের একটি প্রতিনিধি দল। সেখানে ছিলেন সামিরুল ইসলাম, খলিলুর রহমান, আমিরুল ইসলামসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা। সামিরুল সাহেব বলেন, ‘দোষীরা যাতে কঠোরতম শাস্তি পায় সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমরা আপনাদের পাশে রয়েছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ