সংবাদদাতা, সিউড়ি: জেলাজুড়ে রমরমিয়ে চলছে বেআইনি ইট ভাটা। বৈধ ভাটাগুলিও লাইসেন্স নবিকরণ না করে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছিল। তাই রাজ্য সরকার ইট ভাটাগুলির জন্য পোর্টালের ব্যবস্থা করেছে। সেই পোর্টালে ভাটা মালিকরা তাদের নথি আপলোড করলে তবেই মিলবে লাইসেন্স। ইতিমধ্যেই সেই কাজ শুরু হয়েছে বীরভূমেও।
জেলা ভূমি রাজস্ব দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বীরভূমে ২৫৩টি চিমনি ইটের ভাটার হদিস পাওয়া গিয়েছে। তারমধ্যে ১৭৮টি আগে থেকেই বৈধ বলে সরকারের খাতায় নাম রয়েছে। কিন্তু বাকি ৭৫টি ইট ভাটা অবৈধ ভাবে চলছে বলে প্রশাসনিক কর্তারা জানতে পেরেছেন। তাই সমস্ত ভাটা মালিকদের সরকারি লাইসেন্স নবিকরণ করতে অথবা নতুন লাইসেন্স করতে পরামর্শ দিচ্ছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। কিন্তু তারপর এখনও জেলার ঝড়খণ্ড সীমানা এলাকায় বেড়েই চলেছে অবৈধ ইট ভাটা। এইসব ভাটাগুলি প্রধানত বেআইনি কয়লা দিয়েই চলছে। বেআইনি ভাটার সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বৈধ ভাটাগুলি। ভাটাগুলি থেকে জরিমানা ও রাজস্ব বাবদ গত আর্থিক বছরে দু’ কোটি ৪৭ লক্ষ ১৮ হাজার টাকারও বেশি আদায় করেছে দপ্তর। শুধু অবৈধ ভাটাগুলি থেকেই গত অর্থ বর্ষে ৮৬ লক্ষ টাকার বেশি আদায় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে একই সঙ্গে গোটা জেলাজুড়ে ২২৫টি বাংলা ভাটা চলছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই বাংলা ভাটাগুলিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। এই সব ভাটার মালিকদের ভাটা বন্ধের নোটিস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এখন মূলত দুবরাজপুর, খয়রাশোল, কাঁকড়তলা সহ ঝাড়খণ্ড সীমানাবর্তী এলাকাগুলিতে অবৈধ ইট ভাটার রমরমা। তার কারণ, ঝাড়খণ্ড থেকে সহজেই মিলছে সস্তার চোরাই কয়লা। সেই কয়লা দিয়েই চলছে ইটের ভাটা। আরও জানা গিয়েছে, বেআইনি ভাটাগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এঁটে উঠতে না পেরে একাধিক বৈধ ভাটা বন্ধ হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ২২টি বৈধ ভাটা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রোজগারহীন হয়ে পড়ছেন প্রচুর শ্রমিক। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, এই ইটের ভাটাগুলির লাইসেন্স নবিকরণের জন্য সরকারি পোর্টালে নথি আপলোড করতে বলা হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। বীরভূম ব্রিকস ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, জেলাজুড়ে প্রায় চার শতাধিক ইটের ভাটা রয়েছে। আর তার মধ্যে মধ্যে ২৭৮টির ইটের ভাটা সরকার অনুমোদিত। ভাটা মালিকদের দাবি, পরিবেশ বিধি না মেনে অবৈধ ইটের ভাটা গড়ে ওঠায় সেখান থেকে ছড়াচ্ছে দূষণ।