নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বিধানসভা নির্বাচনের আগেই দুর্গাপুর গণধর্ষণ মামলার নিস্পতি করতে মরিয়া রাজ্য সরকার। মামলার গতি বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। প্রকৃত অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আগেই বিশেষ আইনজীবী নিয়োগ করেছিল রাজ্য সরকার। তাঁর ব্যস্ততায় যাতে মামলা গতিরূদ্ধ না হয়, তার জন্য আরও অতিরিক্ত সরকারি আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। শুক্রবার শুনানির দিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পাশাপাশি এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল, নির্যাতিতার সাক্ষ্য। তাঁর বয়ানের উপরই নির্ভর করছে গণধর্ষণে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তাঁর সহপাঠি ওয়াসিফ আলি সহ বাকি পাঁচ অভিযুক্তর ভাগ্য। চলতি মাসেই নির্যাতিতাকে সাক্ষ্যদানের জন্য আদালতে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সব ঠিক থাকলে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ১৬ এবং ১৭ জানুয়ারি নির্যাতিতার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে ।
দুর্গাপুর আদালতের বিচারক লোকেশ পাঠকের এজলাসে বহু চর্চিত দুর্গাপুরে ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণ মামলাটি চলছে। বিচারক আগেই স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, নির্যাতিতার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন সরকার পক্ষের আইনজীবী, অভিযুক্তদের আইনজীবী ছাড়া আর কেউ এজলাসে উপস্থিত থাকবেন না। নির্যাতিতা ওড়িশার বাসিন্দা। যাতে যত কম দিনে তাঁর সাক্ষ্য সম্পন্ন করা যায় সেই ব্যাপারেও উদ্যোগী হয়েছে আদালত। অন্য দিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আড়াইটা থেকে করা হলেও সেদিন সকাল থেকেই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। বৃহস্পতিবার সরকারপক্ষের আইনজীবী সময় মতো এজলাসে হাজির হতে পারেননি। তাই সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। এদিন অনেক আগেই এজলাসে হাজির হন আইনজীবী মৌমিতা বিশ্বাস। শুনানি শুরু হতেই বিচারক জানিয়ে দেন, তাঁকে এই মামলায় সরকার পক্ষ যুক্ত করেছেন। এরপর তিনিই এদিন দু’জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এদিন সাক্ষ্য দেন বেসরকারি মেডিকেল কলেজটির সিকিউরিটি ইনচার্জ নবারুণ চৌধুরী। তিনিই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকের নির্দেশে ১০ ডিসেম্বর গভীর রাতে দুর্গাপুরে নিউ টাউনশিপ থানায় গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ পত্র থানায় জমা করেন। তিনি বলেন, রাত ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ এক সিকিউরিটি কর্মী দ্রুত ইমার্জেন্সিতে আসার অনুরোধ করেন। সেখানে গেলে চিকিৎসকরা জানান, আমাদের একজন ডাক্তারি পড়ুয়াকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তিনি আমাদের হাসপাতালেই ভর্তি আছে। এরপর ডাক্তারদের নির্দেশে কর্তৃপক্ষের করা লিখিত অভিযোগ থানায় নিয়ে যাই। এদিন দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের চিকিৎসক বিশ্বদীপ সাঁইও সাক্ষ্যদান করেন। তিনি বলেন, তদন্তকারী আফিসারের নির্দেশে আমি পরীক্ষা করে দেখি, অভিযুক্ত ডাক্তারি পড়ুয়া ওয়াসিফ আলি যৌনক্রিয়ায় সক্ষম কি না। টেস্টে জানা যায়, তিনি সক্ষম। অভিযুক্তর আইনজীবী শেখর কুণ্ডু বলেন, আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে সেই কাণ্ড করার অভিযোগই নেই। এর কোনও প্রয়োজন ছিল না।
প্রসঙ্গত, গত বছর ১০ অক্টোবর দুর্গাপুরের শোভাপুরের কাছে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের পড়ুয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ওই কলেজ লাগোয়া একটি জঙ্গলে। নির্যাতিতা তাঁর সহপাঠি ওয়াসিফ আলির সঙ্গেই ওই এলাকায় যায়। পুলিশ ধর্ষণের অভিযোগে সহপাঠীকেও গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার হয় বিজড়া গ্রামের আরও পাঁচ অভিযুক্ত। অক্টোবর মাস থেকেই তারা জেল হেপাজতে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত ডাক্তারি পড়ুয়া ওয়াসিফ আলিও তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে দাবি জানিয়েছিল, তাঁর সহপাঠী বন্ধুর যেন সাক্ষ্যগ্রহণ আগে করা হয়। এখন দেখার, নির্যাতিতা ওয়াসিফ সম্পর্কে কী বলেন।