নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মী ও আধিকারিকদের বদলি নিয়ে মাঝেমধ্যেই জটিলতা তৈরি হয়। বদলির জন্য তদ্বির-তদারকিও চলে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে। এই প্রেক্ষাপটে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর জয়েন্ট বিডিওদের জন্য একটি নির্দিষ্ট বদলি নীতি তৈরি করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। গ্রামীণ এলাকায় প্রশাসনিক কাজকর্মে জয়েন্ট বিডিওদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। রুটিন কাজকর্মের পাশাপাশি জনস্বার্থে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয় তাঁদের। এই পদটি ডব্লুবিসিএস গ্রুপ সি ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত। প্রশাসনিক কাজে গতি ও স্বচ্ছতা আনতে এই বদলি নীতি খুবই কার্যকর হবে বলে আশা সংশ্লিষ্ট মহলের।
নয়া বদলি নীতিতে অন্তত ৮ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আধিকারিকদের রাজ্য বা জেলার সদর দপ্তরে বা দপ্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চাকরি জীবনে অন্তত ২-৩ বছর তাঁরা এরকম জায়গায় কাজ করার সুযোগ পাবেন। রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠনের প্রবীণ নেতা মনোজ চক্রবর্তী এই নয়া নীতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে সব শ্রেণির কর্মী ও আধিকারিকদের জন্যই ক্যাডারভিত্তিক বদলি নীতি সরকারের আনা উচিত বলে মনে করেন তিনি। কারণ, নির্দিষ্ট নীতি থাকলে বদলি নিয়ে নানা অনৈতিক কাজকর্ম বন্ধ হবে।
জয়েন্ট বিডিওরা সাধারণত তিন বছর অন্তর বদলি হন। নতুন বদলি নীতিতে কলকাতা সহ রাজ্যের জেলাগুলিকে ছ’টি শ্রেণিতে (এ থেকে এফ) ভাগ করা হয়েছে। চারটি শ্রেণি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিকে নিয়ে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি নিয়ে দু’টি শ্রেণি করা হয়েছে। কোনও জয়েন্ট বিডিওর বাড়ি (হোম টাউন) যে শ্রেণিতে পড়বে, সেখানে অন্তত দু’দফায় কাজ করার সুযোগ পাবেন তিনি। জয়েন্ট বিডিও যে জেলার বাসিন্দা (হোম ডিস্ট্রিক্ট), সেটি ছাড়া ওই জোনের অন্য কোনও জেলায় বদলির সুযোগ পাবেন ৬ বছর কাজ করার পর। বদলি নীতিতে বলে দেওয়া হয়েছে, জয়েন্ট বিডিও নিজের জেলাতে বদলির সুযোগ পাবেন একমাত্র রাজ্য পর্যায়ের বিশেষ কমিটির সুপারিশে। একমাত্র কোনও বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলে এই সুযোগ পাওয়া যাবে। তবে চাকরি জীবনে একবার বাড়ির কাছাকাছি কোনও জোনে কাজ করার সুযোগ মিলবে। একই জেলা বা জায়গায় পরপর দু’বার বদলি হবে না। একই জোনের দু’টি জেলাতেও পরপর বদলি হবে না বলে নয়া নীতিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অবসর নেওয়ার এক বছর আগে কোনও জয়েন্ট বিডিওকে বদলি করা হবে না। জয়েন্ট বিডিও নিজের বা অন্য কোনও দপ্তরে ৩ বছরের জন্য ডেপুটেশনের যাওয়ার সুযোগ পাবেন। কী কী কারণে বিশেষ কমিটি বদলির ক্ষেত্রে ছাড় দেবে, সেটাও বলে দেওয়া হয়েছে নয়া নীতিতে।