Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাসপেনশন প্রত্যাহার চার ডাক্তারি ছাত্রের

সাসপেনশন প্রত্যাহার চার ডাক্তারি ছাত্রের
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: অবশেষে চার ডাক্তারি পড়ুয়ার সাসপেনশন প্রত্যাহার করল রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। বুধবার কলেজ কাউন্সিল মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অধ্যক্ষ করবী বড়াল বলেন, ওই চার ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল। কমিটির চেয়ারম্যানরা এদিনের মিটিংয়ে ছিলেন। তখন ওই পরিস্থিতিতে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু এখন খবর নিয়ে জানা যাচ্ছে অনেক ইন্টার্ন যাঁরা সেইসময় প্রতিবাদ করে সাসপেন্ড করার জন্য আবেদন করেছিলেন তাঁদেরও অনেকের নামে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাহলে তো প্রচুর ছেলেকে হস্টেল থেকে বের করে দেওয়া উচিত। সুতরাং ন্যায়-নীতির জায়গা থেকে ওই চার ছাত্রকে ফেরত আনা হল। সর্বোপরি হাইকোর্টের নির্দেশে সব কলেজে ছাত্ররা ফিরছেন। তবে তাঁরা যাতে অ্যাকাডেমিক ছাড়া অন্য কোনও ক্ষেত্রে যুক্ত না থাকেন সেব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হবে। 
Advertisement
রামপুরহাট মেডিক্যালের ছাত্রী মধুমিতা ঘোষের মৃত্যুতে অভিযুক্তরাই আরজি করে অভয়ার মৃত্যু সামনে রেখে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে নামেন। অভিযুক্ত ইর্ন্টান শাহবাজ শেখ ও তাঁর সঙ্গীরা মেডিক্যাল কলেজে ভয়মুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার দাবিতে আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁরা আউটডোর ও ইন্ডোর পরিষেবা বন্ধ করে দেন। রোগী পরিষেবা ব্যাহত হয়। আরজি করের ঘটনায় নাম জড়ানো চিকিৎসক অভীক দে ও অনিকেত গঙ্গোপাধ্যায়ের কথামতো কলেজের চার ছাত্র, ডিন স্বরূপ সাহা থ্রেট কালচার চালাতেন বলে অভিযোগ তোলা হয়। অধ্যক্ষকে দিনের পর দিন ঘেরাও করা হয়। ডেপুটেশনও দেওয়া হয়। সেইসময় পরিস্থিতির চাপে পড়ে ডিনের পদ থেকে স্বরূপবাবুকে সরিয়ে দেওয়া হয়। চার ছাত্রকে সাসপেন্ড করা হয়। পাশাপাশি স্টুডেন্ট কাউন্সিল ভেঙে নতুন করে গঠনের দাবি তোলা হয়। যতদিন না সেই কাউন্সিল হচ্ছে ততদিন স্টুডেন্ট কাউন্সিলের কো-অর্ডিনেটর করা হয় আন্দোলনকারী ইন্টার্ন শাহবাজ শেখ ও সৌমেন্দু মালাকারকে।
চার বছর আগে হস্টেলে ডাক্তারি পড়ুয়া মধুমিতা ঘোষের রহস্যমৃত্যুর কিনারা হয়নি। পরিবার কোনও বিচার পায়নি। ঘটনার তদন্তে গড়া কমিটির সদস্যরা অভয়ার বিচারের দাবিতে গলা ফাটালেও মধুমিতার মৃত্যুর তদন্তের কোনও রিপোর্ট তাঁরা জমা দেননি। এরই মধ্যে আন্দোলনের মুখদের বিরুদ্ধেই নানা সময় থ্রেট কালচার চালানোর অভিযোগ সামনে আসে। সম্প্রতি মধুমিতার মৃত্যুর প্রকৃত তদন্তের দাবিতে অধ্যক্ষকে ডেপুটেশন দেন প্রতিটি বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, ছাত্রী মৃত্যুতে অভিযুক্ত ও তদন্ত কমিটিতে যাঁরা ছিলেন তাঁরাই এখন অভয়ার বিচার চেয়ে আন্দোলনের মুখ। অভয়ার মতো ওই ছাত্রীর পরিবারের ‘জাস্টিস’ পাওয়ার অধিকার আছে। পাশাপাশি তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, ছাত্রী মৃত্যুতে অভিযুক্ত কী করে স্টুডেন্ট কাউন্সিলের কো-অর্ডিনেটর থাকতে পারেন। ওই পরিবার যাতে বিচার পায় সেজন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ই-মেল করেন অধ্যক্ষ। পড়ুয়াদের আন্দোলনের জেরে স্টুডেন্ট কাউন্সিল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় শাহবাজ ও তাঁর সঙ্গীকে।
এদিন কলেজ কাউন্সিলের বৈঠকে প্রতিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, চার ছাত্রের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে ওই চার ছাত্রের উপর সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সাসপেন্ড হওয়া ডাক্তারি পড়ুয়া নীলেশচন্দ্র মণ্ডল বলেন, সেইসময় চাপে পড়েই আমাদের সাসপেন্ড করা হয়েছিল। আমরা কোনওভাবেই দোষী নয়। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। এর আগে অধ্যক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। এদিন মিটিংয়ে আমাদের সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু সেই চিঠি এখনও পাইনি।
সম্পর্কিত সংবাদ