Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

শ্রীশ্রীঠাকুর

শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণে কুন্তীর শ্রীকৃষ্ণের প্রতি স্তুতিতে শ্রীকৃষ্ণকে তিনি ‘অকিঞ্চনমিত্রায়’ বলছেন, অর্থাৎ ভগবান অকিঞ্চনদের মিত্র। তুমি লিখেছো যে, “মহারাজ আমার কোন ধরনের অবলম্বন নেই।” —তুমি শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীমাকেই নিজের একমাত্র অবলম্বন মনে করো, ওনারাই শুধু অকিঞ্চনদের প্রকৃত মিত্র।

শ্রীশ্রীঠাকুর
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণে কুন্তীর শ্রীকৃষ্ণের প্রতি স্তুতিতে শ্রীকৃষ্ণকে তিনি ‘অকিঞ্চনমিত্রায়’ বলছেন, অর্থাৎ ভগবান অকিঞ্চনদের মিত্র। তুমি লিখেছো যে, “মহারাজ আমার কোন ধরনের অবলম্বন নেই।” —তুমি শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীমাকেই নিজের একমাত্র অবলম্বন মনে করো, ওনারাই শুধু অকিঞ্চনদের প্রকৃত মিত্র। পূজ্যপাদ স্বামী শিবানন্দ মহারাজ (মহাপুরুষ মহারাজ) একটি পত্রে লিখেছিলেন, শ্রীশ্রী চণ্ডী যখন পাঠ করো তখন মা দুর্গাকে বসবার জন্য একটি আসন প্রদান করো এবং তারপর মাকে বলো, মা এই আসনে বসো, এবং আমি এখন শ্রীশ্রী চণ্ডী পাঠ করব, তুমি শোন। একটি শ্লোকে পড়ো এবং দেখো মা শুনছেন কিনা। ওনাকে জিজ্ঞেস করো। যদি মা শুনে না থাকেন তবে আবারও শোনাও। দেখ কন্যা, তুমিও ঠিক এইভাবে পড়াশুনা করো, তোমার পড়া সারদা মাকে বসিয়ে শোনাও। আর যদি ভুলেও যাও তবে মা তোমাকে মনে করিয়ে দেবেন।
তোমার মনে আসীন শ্রীশ্রীঠাকুরের কথা শোনার অভ্যাস করো এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে থাকো। মনকে একেবারে প্রভুর চরণে সমর্পণ করে দাও। শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছে সবকিছু সমর্পণ করো, দেখবে ধীরে ধীরে সংসারের জ্বালা থেকে মুক্তি পাবে। প্রভুর নামকে শুধু অবলম্বন করে জীবনধারণ করো। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্যদেব প্রতিদিন নিজের ইষ্টমন্ত্র আড়াই লক্ষ বার জপ করতেন। ওনার শিষ্য হরিদাসও অনুরূপ সংখ্যায় জপ করতেন। কিন্তু এইরূপ জপ করার জন্য নিজের মনকে অতি চঞ্চল বলে ওকে আরও চঞ্চল করে তোলা কি সঠিক? মনকে আয়ত্তে আনার জন্য নিজের কোন বাসনাকে মন থেকে মুক্ত করো। তখন দেখবে মনই তোমার সহায়ক হয়ে উঠবে।
স্বামী সারদানন্দ মহারাজ দ্বারা লিখিত ‘শ্রীরামকৃষ্ণ-লীলাপ্রসঙ্গ’ (Sri Ramkrishna The Great Master) খুব ভালোভাবে পড়ো। স্বামী বিবেকানন্দের পত্র এবং বক্তৃতাগুলো খুব মন দিয়ে পড়ো। এইভাবে তোমার বুদ্ধি প্রখর হত থাকবে এবং তারপর তুমি প্রভুর সেবার যোগ্য হয়ে উঠবে। জঙ্গলে সবথেকে উঁচু গাছই ঝড় ঝাপটার সম্মুখীন হয়, তাকেই ঝড়ের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। নিজের জীবনকে এইভাবে মনে করো। প্রভুর নাম নিতে থাকো। তোমার জীবনকে প্রভুই সুন্দর করে তৈরী করবেন।
‘উপাসনা পদ্ধতি’ অনুযায়ী নিয়মগুলো প্রতিদিন পালন করার পরেও যখন সময় পাও ইষ্টমন্ত্র মনে মনে জপ করতে থাকো। সেই সময় সংখ্যা রাখার প্রয়োজন নেই। যখন কোন কাজ করছো বা এমনি বসে আছো সেই সময় অবিরাম মনে মনে জপ করো। পূর্বজন্মের মৃত্যুর আগেই আমরা নতুন জীবন সম্পর্কে প্রোগ্রাম তৈরি করে ফেলি। কোথায় জন্ম হবে, মা-বাবা কে হবে, সব কিছু প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিক করে ফেলি, যেমন কেউ কোনো কাজে ইউরোপ বা আমেরিকা যেতে চায়, সে প্রথমে প্রোগ্রাম করে ফেলে সেখানে কি কি কাজ করবে, কোথায় থাকবে, তার সেখানে থাকার ব্যবস্থা (Sponsorship) কে করবে, এইসব ঐখানে পৌঁছানোর আগেই ঠিক করে নিতে হয়। শ্রীশ্রীঠাকুরের মতো যখন সর্বভূতে নারায়ণ দেখবে তখনই প্রত্যেক ব্যক্তি যা বলবে তা করতে পারবে, তাই এই অবস্থায় যাওয়ার জন্য তোমাকে শ্রীশ্রীঠাকুরের আরচরণের অনুকরণের মাধ্যমে নিজের মনকে নির্মল করতে হবে। এটাই কারণ যে বাচ্চাদেরকে বড়দের আদর্শের পালন, ওনাদের আচরণের অনুকরণ করার জন্য বলা হয়ে থাকে।

Advertisement

‘মধু সঞ্চয়ন’ (স্বামী গহনানন্দ উক্তি সংগ্রহ) থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ