সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: রবিবার বন্ধ ঘর থেকে শিশুর মৃতদেহ এবং মা’কে রক্তাক্ত অবস্থার উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টা পর সোমবারও শ্রীলঙ্কা গ্রামের থমথমে পরিস্থিতি কাটেনি। প্রতিবেশীদের মধ্যে চলে চর্চা। শিশুটির মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না গ্রামবাসীরা। এদিকে, শিশুর মা এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন শিলিগুড়ির একটি নার্সিংহোমে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, যে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে তাকে এলাকার প্রত্যেকেই ভালোবাসত। সকলে কোলে নিয়ে ঘুরত। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যায় সাদা কাপড়ে মোড়া তার দেহ গ্রামে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রতিবেশীরা।
প্রসঙ্গত, কাজের সূত্রে শনিবার রাতে বাইরে ছিলেন মৃতার স্বামী মলিন রায়। রবিবার ভোরে মলিন বাড়ি এসে স্ত্রীকে ডাকাডাকি করেও সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের বেড়া ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন স্ত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পাশে পড়ে ছিল তাঁদের সন্তান। মলিনের বাবা রবীন্দ্রনাথ রায় সোমবার বলেন, বাড়িতে কোনও অশান্তি ছিল না। নাতনির মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। বউমাও অসুস্থ।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়ন্তী রায় বলেন, পাড়ার বেশিরভাগ বাড়িতে এদিন হাঁড়ি চড়েনি। চোখ বন্ধ করলেই শিশুটির মুখ ভেসে উঠছে। আমাদের বাড়ির দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া মণিদীপা রায় অসুস্থ। শনিবার অনেক রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করে ও ঘুমিয়েছিল। রবিবার সকালে ঘটনার কথা শুনতে পেরেই জ্ঞান হারায়। শিশুটিকে কোলে নিয়ে ঘুরত। দু’দিন ধরে রান্না করতে ইচ্ছে করছে না। বাড়ির বাচ্চাদের মুড়ি-চিড়ে খেতে দিচ্ছি। শোকস্তব্ধ শ্রীলঙ্কা গ্রামের বাসিন্দারা। - নিজস্ব চিত্র।