Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে মিলন উৎসব শ্রাবণী মেলায়

প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র ও একা। উৎসবের দিন সমস্ত মানুষের সঙ্গে মিলে সে বৃহৎ। ঝাড়গ্রামের শ্রাবণী মেলায় সেই মিলন উৎসবের ছবিই দেখা গেল।

ঝাড়গ্রামে মিলন উৎসব শ্রাবণী মেলায়
  • ২৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র ও একা। উৎসবের দিন সমস্ত মানুষের সঙ্গে মিলে সে বৃহৎ। ঝাড়গ্রামের শ্রাবণী মেলায় সেই মিলন উৎসবের ছবিই দেখা গেল। রবিবার সন্ধ্যায় উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে শ্রাবণী মেলা লোকসংস্কৃতি ও পর্যটন উৎসবের সূচনা হল। বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারাণ্ডি ও শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ওই মেলার সূচনা করেন।

Advertisement

শ্রাবণী মেলা এই জেলার বাসিন্দাদের প্রাণের উৎসব। এই মেলার মাধ্যমে জেলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি পাদপ্রদীপের আলোয় আসে। এবছর মেলা ২১তম বর্ষে পা দিয়েছে। ঝাড়গ্রাম অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে আগামী ১৮আগস্ট অবধি এই মেলা চলবে। ৩০০’টির বেশি স্টল বসেছে। ২০দিন ধরে মেলায় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। যার আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন শ্রীকান্ত আচার্য, আরাত্রিকা সিনহা,  গৌরাঙ্গ কুইল্যা, বাউল শিল্পী ভজন দাস। এছাড়া, স্থানীয় শিল্পীরা জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরবেন।
দীর্ঘ দুই দশক পার করে এই মেলা এখন তারুণ্যে পৌঁছেছে। মেলা কমিটির প্রবীণ সদস্যরা জানান, এই মেলা শুরু পিছনে একটি কাহিনী রয়েছে। ২০০১সালে রঘুনাথপুর দুর্গাপুজো কমিটির উৎসাহী কিশোর সদস্যরা রাজ্য সড়কে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা তুলছিল। সেসময় ঝাড়গ্রাম থানার পুলিস তাদের তিনজনকে ধরে নিয়ে যায়। ক্লাবের সদস্যরা তাদের ছাড়াতে গেলে ঝাড়গ্রাম থানার তৎকালীন ওসি দীপক সরকার বলেন, ক্লাবের ভালো ভাবমূর্তি গড়তে হলে দৃষ্টান্তমূলক কাজ করতে হবে। যা সমাজের সমস্ত মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে। ওসির সেই কথা ক্লাবের সদস্যদের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করে। এরপর ক্লাবের দুই সদস্য গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রয়াত সমীর মালাকারের উদ্যোগে  শ্রাবণী মেলার সূচনা হয়। এই মেলাকে এখনকার পর্যায়ে নিয়ে আসতে রাজকুমার বেরা, মৃত্যুঞ্জয় মাইতি, নান্টু মণ্ডলের মতো সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বর্তমানে মেলা কমিটির সভাপতি পদের দায়িত্বভার সামালাচ্ছেন রঞ্জিত সেন, মলয় খান, কার্তিক ঘোষ, তরুণ মাহাত, শৈবাল দণ্ডপাট, প্রশান্ত গিরি, সব্যসাচী সাঁতরার মতো ব্যক্তিরা। এই বিশাল মেলার নানাদিক তদারকি করছেন মেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মধুসূদন কর্মকার, অশোক ভট্টাচার্য, চন্দন শতপতি, অভিরূপ দাস ও মনোজ নাথ। শ্রাবণী মেলা কমিটির মূল মন্ত্র, একতাই বল ও ‘আমার মুক্তি সর্বজনের মনের মাঝে’।
প্রথমদিন থেকেই মেলায় মানুষের ঢল নেমেছে। ঝাড়গ্রামে বেড়াতে  আসা দূরদূরান্তের পর্যটকরাও মেলায় ভিড় জমাচ্ছেন। চুড়ি, বালা, কানের দুল কিনতে ব্যস্ত তরুণীরা। বাচ্চাদের নিয়ে অনেক দম্পতি ইলেকট্রিক নাগরদোলা সহ নানা রাইডে ভিড় করছেন। ক্ষীরপাইয়ের বিখ্যাত বাবরসার স্বাদ নিতেও দোকানে লম্বা লাইন পড়ছে। কালীঘাট থেকে আনা পাথরের বাটি, ধূপদানি কিনতে অনেকেই দরদাম করছেন। মধ্যপ্রদেশের রিবা জেলা থেকে এসে মেলায় দোকান দিয়েছেন ওম প্রকাশ। তিনি বলেন, বড় মেলার খবর পেয়ে এখানে এসেছি। প্রথমদিন থেকেই ঘর সাজানোর জিনিস ভালো বিক্রি হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম শহরের বাসিন্দা শ্রীজীব মাইতি বলেন, শ্রাবণী মেলা আমাদের সবার প্রাণের উৎসব। স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে প্রথমদিনই মেলায় চলে এসেছি।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ