নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: এসআইআর নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ায় বিজেপি-র ভরাডুবি হবে। বাঁকুড়ার সব আসনেই আমরা জয়লাভ করব। বুধবার তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী তথা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য একথা বলেন। এদিন তিনি বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর শহরে দু’টি পৃথক কর্মিসভা করেন। সেখান থেকে চাঁচাছোলা ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন। নির্বাচন কমিশনকেও তিনি নিশানা করেন।
এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ বাঁকুড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কর্মিসভা শুরু হয়। সেখানে বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী, জেলা মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী বিশ্বরূপা সেনগুপ্ত, জেলা পরিষদ সভাধিপতি অনুসূয়া রায় সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে চন্দ্রিমাদেবী বলেন, আগামী এপ্রিল মাসে দেশের অন্য চারটি রাজ্যের সঙ্গে বাংলায় ভোট হবে। পশ্চিমবঙ্গ সহ বাকি চার রাজ্যে এসআইআর হলেও অসমে তা হচ্ছে না। অসমে বিজেপি ক্ষমতায় আছে বলেই কি এসআইআর হচ্ছে না? এই প্রশ্ন আমরা তুলছি। ২০০২ সালে শেষবার এসআইআর হয়েছিল। সেবার প্রায় দু’বছর ধরে ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার কাজ চলেছিল। এবার মাত্র দু’মাসের মধ্যে এসআইআর শেষ করার কথা বলা হচ্ছে। এটা কীভাবে সম্ভব?
চন্দ্রিমাদেবী বলেন, এরাজ্যে বাংলাদেশি ও রহিঙ্গা রয়েছে বলে বারবার বলা হচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে অসম, ত্রিপুরা সহ একাধিক রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে। সেখানে কি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ হয় না? তাছাড়া সীমান্ত পাহাড়া দেয় বিএসএফ। কেন্দ্রীয় সরকারের আওতায় বিএসএফ থাকে। ফলে অনুপ্রবেশ আটকাতে না পারার দায়ও তাদেরই নিতে হবে। মায়ানমারের বাসিন্দাদের একাংশকে রোহিঙ্গা বলা হয়। ওই দেশের সঙ্গে এরাজ্যের কোনও সীমানা নেই। অথচ সব রোহিঙ্গা বাংলায় ঢুকে পড়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
এদিন বিষ্ণুপুরে যদুভট্ট মঞ্চে উপচে পড়া ভিড়ে মহিলাদের সশক্তিকরণের বার্তা দেন মন্ত্রী চন্দ্রিমাদেবী। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই আজ বাংলার মহিলারা নিজেদের আত্মসম্মান ফিরে পেয়েছেন। নির্বাচনে ৫০শতাংশ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন। শুধু তাই নয়, মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ দেওয়ার জন্য তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প তৈরি করেছেন। তার জন্যই আজ বাজারের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে। বিরোধীরা ভিক্ষা বলে কটাক্ষ করলেও মমতাকে টুকলি করতে চাইছে। কিন্তু, বাংলার মানুষের সুখ দুঃখের খবর না নিয়ে তাঁরা এসব করতে গিয়ে ল্যাজে গোবরে হচ্ছে। তাই ওরা যতই কটাক্ষ করুক। আমরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েই যাব। এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের মহিলা সেলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সঙ্গীতা মালিক, দলের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত, বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ, বড়জোড়ার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
চন্দ্রিমাদেবী এদিন মহিলাদের জন্য তৈরি সমস্ত প্রকল্পগুলি থেকে যে মানুষ লাভবান হচ্ছেন, সেই তথ্য তুলে ধরেন। স্বাস্থ্যসাথী থেকে শুরু করে সাল ধরে ধরে প্রতিটি প্রকল্প কখন চালু হয়েছে, সেই পরিসংখ্যান দেন। সভায় উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিটি প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য মুখস্থ করুন। গ্রামে গ্রামে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে মহিলাদের এই প্রকল্প সম্পর্কে বুঝিয়ে বলুন। বাঁকুড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কর্মিসভায় বক্তব্য রাখছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য -নিজস্ব চিত্র