সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রাম শহরের কাছে কাশিয়া জুয়ৌন গাঁওতা ক্লাবের বাৎসরিক ক্রীড়া ও সাঁওতালি নাটক প্রতিযোগিতা আয়োজিত হল। একদিনের এই প্রতিযোগিতা ঘিরে এলাকার মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন কাশিয়া লাগোয়া ধরমপুর, পুকুরিয়া, জারালাটা, ধোবাধোবিন, দুবরাজপুর, টেঙ্গিয়া সহ বিভিন্ন গ্রামের পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম শহরের বাসিন্দারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তৃণমূল নেতা ছত্রধর মাহাত, শিক্ষক ধনারাম মুর্মু, রাজু হাঁসদা, গুরুপদ মুর্মু, ভাগবত হাঁসদা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কাশিয়া জুয়ৌন গাঁওতা ক্লাবের এই উৎসব ৪৩তম বর্ষে পা দিল। শনিবার সকালে প্রথমে কচিকাঁচা থেকে শুরু করে নানা বয়সের পুরুষ-মহিলাদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়। মোরগ লড়াইয়ের খেলাও জমে ওঠে। ক্লাবের সদস্যরা জানান, যুবসমাজকে নিজস্ব সংস্কৃতিমুখী করে তোলা, বিপথগামী বা নেশাগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করাই তাঁদের উদ্দেশ্য। সেজন্য সাঁওতালি নাটক প্রতিযোগিতার আয়োজন। এরাজ্যের পাশাপাশি ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা বিভিন্ন নাটকের দলের মধ্যে ছয়টিকে পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি এদিন পরিবেশিত বিভিন্ন নাটক জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ক্লাবের সভাপতি সুরেন্দ্রনাথ হেমব্রম ও সম্পাদক উজ্জ্বল হাঁসদা বলেন, এবার আমাদের ক্লাবের বাৎসরিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিশেষ একটি দিকে নজর দিয়েছি। আমরা চারপাশে লক্ষ্য করে দেখতে পাচ্ছি, যুবরা সমাজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি থেকে অনেকখানি দূরে সরে যাচ্ছে। যুব সমাজই আমাদের ভবিষ্যতের কারিগর। তারা সচেতন না হলে আগামী দিনে আমাদের সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হবে। সেজন্য আমরা যুবসমাজকে সাঁওতালি ভাষায় নাটকের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এই প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নাটকের দল অংশ নিয়েছে। অনুষ্ঠানে আমরা এলাকার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা পেয়েছি। মানুষের এই উৎসাহ দেখে আমরা অভিভূত। • নিজস্ব চিত্র