সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ওষুধের শিশিতে মাকড়সা। দু’মাসের শিশুকে খাওয়াবেন বলে স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকেই ওই ভিটামিন কিনেছিলেন তারকেশ্বরের বাসিন্দা অশোক বসাক। এই ঘটনার কথা রটতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তারকেশ্বর থানা এলাকার তালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায়। প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
অশোক বসাক ও তাঁর স্ত্রী কোয়েল বসাকের অভিযোগ, আড়াই মাস আগে স্থানীয় এক নার্সিং হোমে ছেলে হয় আমাদের। ওই নার্সিং হোমের শিশু চিকিৎসক প্রেক্রিপশনে একটি ভিটামিন লিখেছিলেন। সেই ওষুধই কেনা হয়েছিল স্থানীয় একটি দোকান থেকে। তবে সিল খোলার আগে দেখা যায়, ভিতরে মাকড়সা জাতীয় কোনও পোকা ভাসছে। না দেখে খাওয়ালে বড়োসড়ো বিপদ হয়ে যেতে পারত। এবিষয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরে অভিযোগ জানানো হবে। আমরা চাই, ওষুধ নির্মাতা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ওষুধটি ভেজাল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হোক।
ভেজাল ওষুধ নিয়ে তৎপর কেন্দ্রীয় সরকার। গত কয়েক বছর ধরে নিম্নমানের ওষুধ প্রস্তুতকারী বেশ কয়েকটি সংস্থাকে ‘ব্ল্যাক লিস্টেড’ করেছে কেন্দ্র। তারপরও এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। ফার্মাসির মালিক চিরঞ্জিত দাস বলেন, আমরা ডিস্ট্রিবিউটরের থেকে ওষুধ কিনে এনে বিক্রি করি। পুরো বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউটরকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় নার্সিং হোমের তরফে জানানো হয়েছে, তারকেশ্বরের সব শিশু চিকিৎসককে বিষয়টি বলা হয়েছে। তাঁরা এই ওষুধ এখন আর লিখবেন না বলে জানিয়েছেন। তারকেশ্বর ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ হানিফ বলেন, এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি শুনেছি। ওষুধের ওই শিশি হাতে পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলার স্বাস্থ্যদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হবে। প্রয়োজনে ওই ওষুধ বিক্রি বন্ধ করা হবে। নিজস্ব চিত্র