সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ভোটের মুখে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালের পরপর পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সোমবারের একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হার্ট ভালো না থাকলে শরীরে বিশুদ্ধ রক্ত চলাচল করতে পারে না।’ তারপর ফের মঙ্গলবারের পোস্টে সুমন লেখেন ‘ভারত-ভুটান যৌথ নদী কমিশন গঠনে মুখ্যমন্ত্রী বারবার সরব হলেও স্থানীয় স্তরে কোনও আন্দোলন সংগঠিত করতে পারেনি দল।’ পরপর এমন পোস্ট সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল পড়েছে। জল্পনা তৈরি হয়েছে ভোটের মুখে সুমনের এই বেসুরো গাওয়া নিয়ে।
এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় সুমন লেখেন, ‘প্রতি বছর বর্ষায় ভুটান থেকে আসা নদীগুলির ভাঙনে আলিপুরদুয়ার জেলা তথা ডুয়ার্সের চা বাগান, কৃষি ও বনাঞ্চলের জমি তলিয়ে যাচ্ছে। এই ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য আমিই বিধানসভায় ভারত-ভুটান যৌথ নদী কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তারপরেই মুখ্যমন্ত্রী এই নদী কমিশন গঠনের জন্য বারবার সরব হয়েছিলেন। দিল্লিতে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী সরব হয়েছিলেন। যদিও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এই নদী কমিশন গঠনে বারবার সরব হলেও এই ইস্যুতে স্থানীয় স্তরে কোন সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি দল। ফলে এই কমিশন গঠনের সঠিক যথার্থতা নিয়ে আমরা মানুষের কাছে পৌঁছতেই পারিনি।’
পরপর দু’দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় সুমনের এমন পোস্ট সামনে আসতেই শাসক দলের অন্দরে শোরগোল তৈরি হয়েছে। এনিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, সুমন দলে আসার পর তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ও আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের চেয়ারম্যান করেছেন। তাঁরও তো দায়িত্ব ছিল এবিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া। এখন ভোটের মুখে তিনি দলের ঘাড়ে দায় চাপাচ্ছেন? সুমনের উচিত এবিষয়ে দলের সঙ্গে কথা বলা। দলের জেলা সভাপতি রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বরাইক অবশ্য এনিয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করেন।