সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখায় শনিবার বাতিল ছিল বহু ট্রেন। দিনভর ব্লক থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হল সাধারণ যাত্রীদের। রেল আচমকা ব্লক ঘোষণা করায় জানতে পারেননি যাত্রীরা। ব্লক থাকা সত্ত্বেও শাখার বিভিন্ন স্টেশনের টিকিট দেওয়া হয়। এনিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়ায় কাটোয়া স্টেশনে। কয়েকশো যাত্রী হাওড়া-কাটোয়া শাখার লোকাল ট্রেন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। শেষে দুপুরের দিকে বাধ্য হয়ে বিশেষ ট্রেনে আজিমগঞ্জ শাখার যাত্রীদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার সময়ে রীতিমতো দুর্ভোগের শিকার হতে হল কয়েক হাজার যাত্রীকে। হাওড়া-কাটোয়া লোকাল ট্রেনটিকে তিরিশ মিনিট পর ছাড়ার ব্যবস্থা করে রেল পুলিস। অবরোধে শামিল যাত্রীদের শান্ত করা হয়।
কাটোয়া স্টেশন ম্যানেজার সুপ্রভাত ভট্টাচার্য বলেন, লাইনে কাজের জন্য আগেই ব্লক ঘোষণা করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ব্লক থাকা স্টেশনগুলির টিকিট কেন অন্যান্য স্টেশন থেকে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে ডিভিশনে জানিয়েছি। তবে আমরা স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করে যাত্রীদের বাড়ি ফেরাতে পেরেছি। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন আজিমগঞ্জ-কাটোয়া শাখায় কাটোয়া থেকে আজিমগঞ্জ যাওয়ার বহু ট্রেন, আজিমগঞ্জ থেকে কাটোয়া আসার বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন বাতিল ছিল। এছাড়াও শিয়ালদহ থেকে জঙ্গিপুর রোড যাওয়ার ট্রেনটি কাটোয়া স্টেশনে আসার পর দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। খাগড়াঘাট ও কর্ণসুবর্ণের মাঝে কাজের জন্য ব্লক ছিল। সকাল ৮টা ১০ মিনিট থেকে দুপুর ২টো ৪০ মিনিট পর্যন্ত ব্লক ছিল। কিন্তু শিয়ালদহ থেকে জঙ্গিপুর রোড যাওয়ার ট্রেনটি কাটোয়া স্টেশনে আসার পর দাঁড় করিয়ে দেওয়ার পরেই সমস্যা দেখা দেয়। কারণ ওই ট্রেনের কয়েক হাজার পরিয়ায়ী শ্রমিক ঈদের জন্য বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁদের শিয়ালদহ স্টেশনে জঙ্গিপুর পর্যন্ত টিকিট দিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা কাটোয়া এসে আজিমগঞ্জ শাখায় ট্রেন না পেয়ে খেপে যান। তাই কয়েকশো যাত্রী তখন হাওড়া-কাটোয়া শাখায় লাইনে নেমে অবরোধ শুরু করেন। যাত্রীদের দাবি, যতক্ষণ না পর্যন্ত আজিমগঞ্জ শাখায় ট্রেন দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অবরোধ চলবে। তাতে হাওড়া-কাটোয়া লোকাল ট্রেনটি সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটের পরিবর্তে ১১টা ৩০ মিনিটে ছাড়ে। রেল পুলিস ও স্টেশন ম্যানেজার বিশেষ ট্রেনের ঘোষণা করায় শান্ত হন যাত্রীরা। এদিন ওড়িশা থেকে মুর্শিদাবাদ জেলায় ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন পরিযায়ী শ্রমিক আনিকুল শেখ, রাজিবুল শেখ। তাঁরা বলেন, আমাদের শিয়ালদহ স্টেশনে জঙ্গিপুর পর্যন্ত টিকিট দিয়ে দেওয়া হয়। ওইখানেই যদি আজিমগঞ্জ শাখায় ব্লক থাকার কথা জানতে পারতাম, তাহলে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করে ফিরতে পারতাম। কিন্তু রেল তা করেনি। কাটোয়া স্টেশনে এসে নাকাল হতে হচ্ছিল। তাই অবরোধ শুরু করি। হোসেন শেখ নামে এক পরিযায়ী শ্রমিক বলেন, আমি নিমতিতা যাব। ওড়িশা থেকে ফিরছিলাম। পূর্ব রেলের যে শাখাতেই ব্লক থাকুক না কেন, বড় স্টেশনগুলিতে জানিয়ে দিলে আমাদের নাকাল হতে হতো না। বার বার রেল এরকম করে। এদিন বিক্ষোভরত যাত্রীরা হাওড়া-কাটোয়া লোকাল ট্রেনের চালকের গেট ধরে ধাক্কা মারেন। স্টেশন ম্যানেজারকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। শেষে আজিমগঞ্জ শাখায় বেলা ১২টার পর বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। সেই ট্রেনেও কার্যত ঝুঁকি নিয়ে কয়েক হাজার মানুষ বাড়ি ফেরেন। রেলের এরকম খামখেয়ালিপনাতে বিরক্ত সাধারণ মানুষ।