সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষ্যে শুক্রবার নবদ্বীপের মণিপুর ঘাটে তারামা মন্দিরে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। এই পুজো দেখতে প্রতিবছর নবদ্বীপ ও পূর্ব বর্ধমান জেলার নানা এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ ভিড় করে। ভক্তরা দীর্ঘ সময় ধরে লাইন দিয়ে তারামার পুজো দেন।
শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে মন্দির প্রাঙ্গণে তারামা ও বামদেবের পুজো হবে। সেইসঙ্গে চন্দ্রচূড় শিবমন্দির, বজরংবলী মন্দিরেও পুজো হবে। রাতে শ্মশানে পূজা, শৈল ভোগ অর্থাৎ শিয়ালের ভোগও দেওয়া হবে। তারামা মন্দিরে সোম ও বৃহস্পতিবার বাদে প্রতিদিন দুপুরে দেবীকে মৎস্যভোগ নিবেদন করা হয়। এই মন্দিরে দিনে তিনবার ভোগ দেওয়া হয়। সকালে ফল ভোগ, দুপুরে অন্ন ভোগ ও সন্ধ্যায় আরতির সময় মিষ্টি ভোগ দেওয়া হয়। ভোগ আরতির পর ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিলি করা হয়।
মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ নিতাই সাহা বলেন, এখানে তারামার নিত্যপুজো হয়। সোম ও বৃহস্পতিবার দেবীকে নিরামিষ ভোগ দেওয়া হয়। বাকি দিনে আমিষ ভোগ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কৌশিকী অমাবস্যায় শোল, চিংড়ি, ইলিশ, রুই, কাতলা সহ বিভিন্ন মাছ দেবীকে নিবেদন করা হবে। রাতে নবদ্বীপ মহাশ্মশানে শ্মশান পুজো হবে। দেবীকে খিচুড়ি, আলুর দম, পাঁচ তরকারি, পুষ্পান্ন ও পরমান্ন ভোগ দেওয়া হবে। সেই মহাপ্রসাদ ভক্তদের মধ্যে বিলি করা হবে।
নবদ্বীপের মণিপুর ঘাটে প্রায় ২২বছর ধরে তারামায়ের পুজো হয়ে আসছে। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ পুজো দিতে ভিড় করে। সীমানা প্রাচীর তৈরি সহ মন্দির কর্তৃপক্ষকে নানাভাবে সহযোগিতা করে আসছেন পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা।