সংবাদদাতা, কালনা: দীঘায় জগন্নাথদেবের প্রাণ প্রতিষ্ঠা ও দ্বারোদ্ঘাটন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার যখন যাগযজ্ঞ চলছে। তখন নাদনঘাট থানার উত্তর শ্রীরামপুরের গোপীনাথ মন্দিরে জগন্নাথদেবের বিশেষ পুজো-পাঠ করলেন এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। বহু ভক্তপ্রাণ পুরুষ ও মহিলা পুজোপাঠ ও কীর্তনে অংশ নেন। পুজো শেষে ভোগ বিতরণ হয়। এদিন মন্দির চত্বরে আলদা ভাবে জগন্নাথদেবের মন্দির তৈরির আশ্বাস দেন মন্ত্রী। বুধবার এই মন্দির চত্বরে জায়ান্ট স্কিনের মাধ্যমে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের জগন্নাথদেবের প্রাণ প্রতিষ্ঠা ও দ্বারোদ্ঘাটন লাইভ দেখানো হবে বলে জানানো হয়।
নাদনঘাট থানার পূর্বস্থলী-১ ব্লকের উত্তর শ্রীরামপুরে আসতেন চৈতন্যদেব। আসার পথে তিনি একটি বকুলগাছের নীচে বিশ্রাম নিতেন। পরবর্তীতে সেই স্থানে গড়ে ওঠে রাধাগোবিন্দের গোপীনাথ মন্দির। বকুলগাছটি আজও বিদ্যমান। এই সরকার আসার পর পর্যটন দপ্তর ১০ লক্ষাধিক টাকায় মন্দিরের সৌন্দর্যায়ন করে। এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ গোপীনাথ মন্দির চত্বরে রথ তৈরি করেন। শুরু হয় রথযাত্রা। পাশাপাশি মন্দিরে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের পুজো শুরু হয়। দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন ও জগন্নাথদেবের প্রাণ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার চলছে যাগযজ্ঞ। তাই এদিন গোপীনাথ মন্দিরে স্বপনবাবুর উদ্যোগে চলে বিশেষ পুজোপাঠ, কীর্তন ও ভোগ বিতরণ।
স্বপনবাবু বলেন, দীঘার জগন্নাথ মন্দির তৈরি করে অমর কীর্তি স্থাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্বস্থলী-১ ব্লকের বিদ্যানগর, গঙ্গানন্দপুর, মাগনপুর জাহান্নগর সমুদ্রগড় প্রভৃতি ছিল চৈতন্যদেবের বাল্যশিক্ষা কেন্দ্র, ভিক্ষানগরী সহ ভক্তি প্রচারের কেন্দ্র। গোপীনাথ মন্দির সংলগ্ন বকুলতলায় চৈতন্যদেব বিশ্রাম নিতেন। গোপীনাথ মন্দিরে রাধাগোবিন্দ পূজিত হন। এক দশকের বেশি সময় ধরে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরাম পূজিত হন ও রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়। • নিজস্ব চিত্র