নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ইভিএমের ফার্স্ট লেভেল চেকিংয়ে এবার বাড়তি নজরদারি নির্বাচন কমিশনের। প্রতিটি ইভিএম কীভাবে চেকিং করা হচ্ছে তা দিল্লির অফিস থেকে বসে দেখার জন্য ওয়েব কাস্টিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইভিএমগুলি ঠিক রয়েছে কিনা তা দেখার জন্য এবারই প্রথম বিশেষ মেশিন আসছে। প্রি ফাস্ট লেভেল চেকিং ইউনিট নামে মেশিটি নতুন ইভিএমগুলি যাচাই করবে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপেই প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথায় চলছে। বিজেপিকে ঘুরপথে সুবিধা দিতেই ম্যানুয়াল সিস্টেম তুলে দিয়ে মেশিন দিয়ে ইভিএম চেকিং শুরু করা হচ্ছে। তারা কড়া নজরদারি চালাবে বলে জানিয়েছে।
আজ, বুধবার থেকে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ইভিএম, ভিভিপ্যাট সহ ভোটদান প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা যন্ত্রগুলির ফাস্ট লেভেল চেকিং শুরু হচ্ছে। জেলায় এখন বুথের সংখ্যা ২৫০৪। বুথে সর্বোচ্চ ১২০০জন ভোটার থাকবেন। এই নিয়মে আরও কিছু বুথ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৪৮০০টি মেশিন পরীক্ষা করা হবে। তারমধ্যে ৫০শতাংশ মেশিনই একেবারে নতুন। প্রতিটি ইভিএম মেশিনেরই প্রাথমিক চেকিং করবে বিশেষ যন্ত্রগুলি। মেশিন ছাড়পত্র দেওয়ার পরেই ইভিএমগুলি সঠিক বলে বিবেচিত হবে। এরপর প্রতিটি ইভিএমের ৯৬টি করে মক পোল করে তা সঠিক রয়েছে কিনা দেখা হবে। সাতদিন ধরে এই প্রক্রিয়া চলবে। এতদিন পুরো বিষয়টি ম্যানুয়ালি হলেও হঠাৎই মেশিনের ব্যবহার নিয়ে সন্দিহান বিজেপি বিরোধী দলগুলি। তাদের অভিযোগ, প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজেপি অগণতান্ত্রিক পথে বিভিন্ন রাজ্য দখল করেছে। বাংলার ক্ষেত্রেও তা করতে তারা সক্রিয়। হঠাৎ প্রথাগত ইভিএম চেকিং ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে সরব হয়েছেন তারা।
জানা গিয়েছে, সোমবার সর্বদলীয় বৈঠকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সামনে আনা হয়। তখনই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা এনিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কংগ্রেসের প্রতিনিধিরাও রাজ্যের শাসকদলের নেতৃত্বের কথাতেই সুর মেলান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়, ফার্স্ট লেভেল চেকিংয়ের সময় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের তিনজন করে প্রতিনিধি থাকতে পারবেন। তাঁদের কোনও সন্দেহ হলে আপত্তি জানাতে পারবেন। প্রয়োজন মনে হলে তাঁরা নিজেরাও ইভিএমে সঠিকভাবে ভোট পড়ছে কিনা মক পোল করে দেখে নিতে পারেন। পুরো প্রক্রিয়াটি যে দিল্লিতে বসে নির্বাচন কমিশন নজরদারি করবে তাও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সর্বদলীয় বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি আকাশ মুখোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি কোনওদিন বাংলা দখল করতে পারবে না। তাই ভোট চুরি করার নানা কৌশল নিচ্ছে। আমাদের সন্দেহ সেই কৌশলেরই অঙ্গ এই মেশিন দিয়ে ইভিএম চেকিং। আমরা রাজ্য নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়েছি। দলীয় প্রতিনিধিরা সেইসময় কড়া নজরদারি চালাবেন। কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, ভোট চুরি করে বিজেপি যে রাজ্যে ক্ষমতা দখল করছে তা আমাদের নেতা রাহুল গান্ধী প্রমাণ করে দিয়েছেন। বিজেপিকে সাহায্য করতে নির্বাচন কমিশনের এটি নতুন কৌশল। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি।
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক তাপস রায় বলেন, কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস এখন বিজেপির ভূত দেখছে। এসআইআরে ভুয়ো ভোটার বাদ পড়ে যাওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস বুঝতে পারছে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।