Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তারকেশ্বরে মেলায় ‘স্পেশাল লাইন’ চালু কং আমল থেকে

তারকেশ্বর মন্দিরে জল ঢালতে দিতে হচ্ছে টাকা! এই সংক্রান্ত এক বিতর্কিত ভিডিয়ো নিয়ে মুখ খুললেন মন্দির কর্তৃপক্ষ ও বিধায়করা।

তারকেশ্বরে মেলায় ‘স্পেশাল  লাইন’ চালু কং আমল থেকে
  • ৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা তারকেশ্বর: তারকেশ্বর মন্দিরে জল ঢালতে দিতে হচ্ছে টাকা! এই সংক্রান্ত এক বিতর্কিত ভিডিয়ো নিয়ে মুখ খুললেন মন্দির কর্তৃপক্ষ ও বিধায়করা। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানান, কংগ্রেস আমল থেকে ‘স্পেশাল লাইন’ চালু আছে। এবছর নতুন কিছু হয়নি। ভক্তরা সাধারণ লাইনে দাঁড়িয়েও পুজো দিতে পারেন। তারকেশ্বর শ্রাবণী মেলা নিয়ে সমাজমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিয়োর প্রেক্ষিতে সপ্তাহখানেক যাবৎ তোলপাড় চলছে। ওই বিতর্কিত ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, ২০০ টাকা হাতে নিয়ে এক তীর্থযাত্রী অভিযোগ করছেন তারকেশ্বর মন্দিরে জল ঢালতে দিতে হচ্ছে টাকা। এই ভিডিয়ো নিয়ে ইউটিউব এবং ফেসবুকে তারকেশ্বর শ্রাবণী মেলার বিরুদ্ধে প্রচার চলতে থাকে। নেটিজনদের সরকার বিরোধী কমেন্টে ভরে গিয়েছে দেওয়াল। 

Advertisement

রবিবার তারকেশ্বর মন্দির এস্টেটের ম্যানেজার প্রশান্ত জীবন ভট্টাচার্য বলেন, তারকেশ্বরের শ্রাবণী ও চৈত্র মাসের মেলায় যে ভিড় হয় সেখানে সবসময় একটি সাধারণ লাইন থাকে এবং একটি মহিলা লাইন থাকে। এছাড়া থাকে একটি স্পেশাল লাইন। স্পেশাল লাইনের জন্য মূল্য ধার্য রয়েছে ১০০ টাকা। স্পেশাল লাইন শুরু হয়েছে কংগ্রেস আমলে। পরবর্তী বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল জমানাতেও তার নড়চড় হয়নি। রাজনৈতিক পালাবদলের ফলে রাজ্যে এখন বিজেপি সরকার। সরকারের সঙ্গে এই স্পেশাল লাইনের কোনো সম্পর্ক নেই। এই স্পেশাল লাইন থেকে যে অর্থ পাওয়া যায় তা তারকনাথের সেবা, পুজো এবং উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়। গত সোমবার প্রশাসনের মতে, ২০ লক্ষ তীর্থযাত্রীর আগমন হয়েছিল। স্পেশাল লাইনে মাত্র ১০ হাজার ১০০ জন জল ঢেলেছেন। স্পেশাল লাইন সম্বন্ধে যে প্রচার চলছে তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। স্পেশাল লাইন ছাড়া সকলেই সাধারণ লাইনের দাঁড়িয়ে জল ঢালতে পারেন। 
তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পান ও পুরশুড়ার বিধায়ক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আপনাদের জানাচ্ছি যে, তারকেশ্বর মন্দিরের এস্টেট ও রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ আলাদা। যে টাকা নেওয়া হচ্ছে তা মন্দির কর্তৃপক্ষের। রাজ্য সরকার অর্থ দিয়ে মেলা সুন্দরভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। সরকার বিরোধী প্রচারের জন্যই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ভিডিয়ো প্রচার করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভিড় সামলাতে তারকেশ্বর বাজিতপুর চৌমাথা থেকে কিছু তীর্থযাত্রীকে জয়কৃষ্ণ বাজার দিয়ে ঘুরিয়ে মন্দিরের কাছে নিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। এই পুণ্যার্থীরা সাধারণ লাইনে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে স্পেশাল লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে তাঁদের। এই ধরনের বিতর্ক তৈরি হচ্ছে তা থেকেই। 
অন্যদিকে, রবিবার তারকেশ্বর মন্দিরে সপরিবারে পুজো দিতে আসেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। পুজো দিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, পশ্চিমবাংলায় আস্তিকের পরিবেশ এসেছে, আগে নাস্তিকের পরিবেশ ছিল। সেই কারণে এখন অনুভূতিটা খুব ভালো হচ্ছে। মনে হচ্ছে, ভগবানের কাছে আমরা চলে এসেছি। বাবা তারকনাথের কাছে প্রার্থনা করেছি, পশ্চিমবঙ্গ যেন উন্নয়নের দিক থেকে শিখরে পৌঁছায়। ত্রিপুরাবাসীর জন্য মঙ্গল কামনা করেছি। বাবা সব দেখছেন। পশ্চিমবাংলায় যে অনাচার চলছিল তা থেকে মুক্ত হয়েছে। এটা একমাত্র সম্ভব হয়েছে বাবা তারকনাথের আশীর্বাদে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ