নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মধ্যরাত কিংবা শুনশান অন্ধকার রাস্তা নয়। ‘অপারেশন’ চলছে প্রকাশ্যে কখনও দিনের আলোয়, কখনও ভরসন্ধ্যায়। টালিগঞ্জজুড়ে ত্রাসের সঞ্চার করেছে দুই যুবক। তাদের একজনের মাথায় টুপি। অন্যজনের মুখে মাস্ক। সরকারি প্রকল্পে বিতরণ করা সাইকেল নিয়ে টালিগঞ্জ এলাকায় ঘোরাঘুরি করছে তারা। আর সুযোগ পেলেই বাইকের লক ভেঙে, ইগনিশন তার ব্যাটারির সঙ্গে জুড়ে বাইক নিয়ে চুপচাপ এলাকা ছাড়ছে দুই গুণধর। সিসি ক্যামেরার নজরদাড়িতে এলেও ভয়ের লেশমাত্র নেই। কারণ বিশেষ কেরামতিতে পুলিশি নজর এড়াচ্ছে তারা। ধন্দে পড়ছেন উর্দিধারীরা।
টালিগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন থানা এলাকা মিলিয়ে ১৫ দিনে মোট চারটি বাইক চুরির ঘটনা ঘটেছে। সবক্ষেত্রেই সিসি ক্যামেরায় দুই যুবককে দেখা গিয়েছে। কিন্তু, তাদের পাকড়াও করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। গত রবিবার নেতাজিনগরে ‘অপারেশন’ চালায় দুই যুবক। রাত ৯টা নাগাদ নেতাজিনগরের একটি গলিতে সাইকেলে করে দুই অভিযুক্তকে যেতে দেখা গিয়েছে। তখনও লোকজন ওই রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করছেন। তার মধ্যেই সাইকেল থেকে নেমে এক যুবক নিঃশব্দে একটি গলিতে ঢুকে যায়। এরপর এক মিনিটেরও কম সময়ে একটি বাইক হাতিয়ে বেরিয়ে আসে সে। অন্য যুবক ততক্ষণে কিছুটা দূরে সাইকেলটি রেখে আসে। সেখানেই চোরাই বাইকটি নিয়ে দাঁড়ায় শাগরেদ। এখানেই চলে পুলিশকে ধাপ্পা দেওয়ার বিশেষ কেরামতি। যে অভিযুক্ত বাইকের লক ভাঙতে গিয়েছিল, সে অন্যজনের মাথায় থাকা টুপি নিয়ে নিজে পরে নেয়। তারপর সাইকেল নিয়ে এলাকা ছাড়ে। অন্যদিকে, সাইকেল নিয়ে গলির বাইরে অপেক্ষা করা যুবক চোরাই বাইক নিয়ে নিমেষে গায়েব হয়ে যায়।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে গোটা বিষয়টি স্পষ্ট ধরা পড়েছে। এই ঘটনা নিয়ে রীতিমত হইচই পড়ে এলাকায়। ফুটেজ দেখে বোঝা গিয়েছে, পরিকল্পনা করেই বাইক চুরি করতে নেমেছে দুই যুবক। রাস্তায় কোন কোন জায়গায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে, তা সবটাই জানে অভিযুক্তরা। ইতিমধ্যেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন চুরি যাওয়া বাইকের মালিক। পরপর বাইক চুরির ঘটনায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পুলিশের। তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্রে খবর, পুজোর মুখে চোরাবাজারে সেকেন্ড হ্যান্ড বাইকের চাহিদা তুঙ্গে। ১৫-২০ হাজার টাকায় বাইক বিক্রি হয় চোরাবাজারে। তার জেরেই পরপর বাইক চুরির ঘটনা।