সিওল, ৪ মার্চ: প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারিত হলেন ইউন সুক ইওল। দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালতের নির্দেশে পদ খুইয়েছেন তিনি। সঙ্গে অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ছাড়তেও ইউনকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা। আজ, শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত ঘোষণা করে, দেশে সামরিক আইন লাগু করে জনগণের মৌলিক অধিকার খর্ব করেছেন ইউন সুক। এই পদক্ষেপ সংবিধান বিরোধীও। তাই ইউন দেশের প্রেসিডেন্ট পদে আর থাকতে পারবেন না। সাংবিধানিক আদালত এও জানিয়েছে, আগামী ৬০দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে হবে। ততদিন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী হান ডাক সু। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর আচমকাই দেশজুড়ে সামরিক আইন লাগু করেছিলেন ইউন সুক ইওল। তাঁর সেই ঘোষণার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ জনগণ। ইউন সামরিক আইন ঘোষণার পরই দেশের সংসদ ভবনে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী ও পুলিস। যাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
এই সামরিক আইন লাগুর পিছনে ইউনের যুক্তি ছিল, দেশে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি মাথাচাড়া দিচ্ছে ও উত্তর কোরিয়াপন্থীরা সরকারে প্রবেশ করছে। যদিও তীব্র বিরোধের মাঝে সামরিক আইন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন তিনি। এই সামরিক আইন লাগুর বিষয়টি ভালো চোখে দেখেনি আদালত। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ ছিল সংবিধানবিরোধী ও জনগণের অধিকারকে খর্ব করার মতো অপরাধ। যদিও ইউন নিজেকে প্রথম থেকেই নির্দোষ বলে এসেছেন। যদিও তাঁর যুক্তি মানতে নারাজ ছিল বিরোধীরা। সামরিক আইন লাগুর জন্য তাঁর বিরুদ্ধে সংসদে ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব আনে বিরোধীরা। সেই প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে দেখা যায়, ইউনের বিরুদ্ধেই ভোট দিয়েছেন দেশের আইনপ্রণেতারা। যার ভিত্তিতে প্রেসেডেন্ট পদ খোয়ান তিনি।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালতের রায়ের অপেক্ষাতে ছিলেন ইউন। আজ, শুক্রবার সেই রায় ঘোষণা করে আট বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ। যাতে ইউন সুক ইওলকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করার পক্ষে মত দেন ছ’জন বিচারপতি। তবে সিওল সহ দক্ষিণ কোরিয়ার বহু শহরে আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ইউনের সমর্থকরা তাঁর হয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন।