গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: তীব্র গরম থেকে রেহাই পেতে বাড়িতে বসানো হচ্ছে এসি। কিন্তু বেশিরভাগ গ্রাহকই বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানিকে নির্দিষ্ট লোড জানাচ্ছেন না। বাড়তি লোডের জেরে দ্রুত ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ ঘাটতিও দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। লোড না বাড়িয়েই দেদার এসি ব্যবহার রুখতে তাই ময়দানে নামল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি। ইতিমধ্যেই তারা ২৬০০ বাড়িতে নোটিস পাঠানো শুরু করেছে। অভিযোগ, একাংশ বাড়িতে পর্যাপ্ত লোড না বাড়িয়েই দেদার এসি, কুলার, ফ্রিজ সহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই নোটিসে বিদ্যুতের লোড বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। অমান্য করলে পরবর্তীতে বেশি লোডের টাকা বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে যোগ করা হবে।
তীব্র গরমে জেলার নানা জায়গায় বিদ্যুৎ কোম্পানিকে না জানিয়ে প্রচুর এসি ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু এলাকায় ক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন হলেও জানতেই পারছে না কোম্পানি। সেক্ষেত্রে বিদ্যুতের ঘাটতির ফলে কিছু এলাকায় লো-ভোল্টেজের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির দক্ষিণ দিনাজপুরের রিজিওনাল ম্যানেজার শুভময় সরকার বলেন, জেলায় প্রায় ২৬০০ বাড়ি চিহ্নিত করেছি। সেগুলিতে পর্যাপ্ত লোড না নিয়েই এসি বা অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা লোড বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য নোটিস দিয়েছি। যেহেতু বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে, তাই দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সাধারণ মানুষকেও সতর্কমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
কোম্পানি সূত্রে আরও খবর, এপ্রিল-মে নাগাদ জেলাজুড়ে প্রচুর এসি, কুলার, ফ্রিজ বিক্রি হয়েছে। এখনও বালুরঘাট শহরের ইলেকট্রনিক্স দোকানগুলিতে লম্বা লাইন। অথচ লোড না নিয়েই অধিকাংশ এসি ব্যবহার করছেন গ্রাহকরা।
বণ্টন কোম্পানি জানিয়েছে, গত মে থেকে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত এসি কেনার পর মাত্র ২৮৫ জন গ্রাহক লোড বাড়ানোর আবেদন করেছেন। অথচ বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে ২৬০০ বাড়িতে পর্যাপ্ত লোড না বাড়িয়েই এসি সহ নানা ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সংখ্যা বালুরঘাট শহরেই বেশি।
বালুরঘাট মহকুমার চারটি ব্লকে ১৭৫০টি বাড়িতে এই নোটিস পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে, গঙ্গারামপুর মহকুমার আরও চারটি ব্লকে ৮৫০টি নোটিস যাবে। মে থেকেই নোটিস পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।