সংবাদদাতা, হলদিবাড়ি: সংস্কারের অভাবে বেহাল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। পঞ্চাশ বছর আগে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের মানিকগঞ্জ বাজারে তৈরি হয়েছিল দক্ষিণ বেরুবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। তারপর সংস্কার তো দূরের কথা, কোনওরকম রক্ষণাবেক্ষণই হয়নি। ভঙ্গুর বাড়িতে ঝড়-জল-বৃষ্টিতে এখানে বসেই রোগীদের পরিষেবা দিচ্ছেন একজন চিকিৎসক। আছেন একজন নার্স ও একজন গ্রুপ-ডি কর্মী। জোরে হাওয়া হলে কিংবা বৃষ্টি পড়লে যেকোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে ভবন! তাই তখন এখানে কেউ আর থাকেন না। সব জেনেও বেহাল ভবনের পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রশাসনের হেলদোল নেই বলে অভিযোগ।
দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের যমুনা সেতু সংলগ্ন কয়েক একর জমির উপর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। কমবেশি প্রতিদিন ১০০ জন চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন। সাতকুড়ার বাসিন্দা প্রদীপ সেন বলেন, আমরা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দা। এখানে কোনও হাসপাতাল নেই। তাই এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিই আমাদের ভরসা। চিকিৎসক, নার্স, কর্মী একজন করে। বর্ষাকালে ছাদ চুঁইয়ে জলে ভেসে যায় মেঝে। আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথি, ওষুধপত্র, চিকিৎসার সরঞ্জাম তাই নষ্ট হওয়ার উপক্রম। এখানে পরিষেবা নিতে এসে প্রতিপদে বিপদের আশঙ্কা থাকে। ভবন আগাছার ঢেকে আছে। দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। ছাদ থেকে চাঙড় খসে পড়ছে। যেকোনও সময় ওসব মাথায় এসে পড়ার মতো অবস্থা।
মানিকগঞ্জের বাসিন্দা মৃণাল অধিকারীর বক্তব্য, আশেপাশে অন্য কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় বাধ্য হয়েই বিপদ মাথায় নিয়ে এখানে আসি। ভয় হয় এই বুঝি ছাদ ভেঙে পড়ল। একবছর আগে ফার্মাসিস্ট অবসর নিয়েছেন। সেই কাজ সামলাচ্ছেন একজন সাধারণ কর্মী। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সুইপার নেই।
এ বিষয়ে দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুমিত্রা দেব অধিকারী বলেন, গ্রামে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও পরিকাঠামোর অভাবে সুষ্ঠু পরিষেবা থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী। ন্যূনতম চিকিৎসার জন্য কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল অথবা মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতাল যেতে হয়। না হলে ৪০ কিমি দূরে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে যাই আমরা। রাতবিরেতে সমস্যা আরও। সমস্যার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু তারপরও কাজ হয়নি।
এ বিষয়ে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বিএমওএইচ ডাঃ প্রীতম বসু জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।