নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিনভর প্রবল ব্যস্ততা। স্পনসরদের লাগাতার অনুষ্ঠান। কালো টিশার্ট, নীল জিনস, গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ির সৌরভ গাঙ্গুলি তার মধ্যেও ক্রিকেটীয় ইস্যুতে চেনা স্টান্সে। বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার হয়ে ব্যাট ধরাতেই যা প্রতিফলিত!
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিনভর প্রবল ব্যস্ততা। স্পনসরদের লাগাতার অনুষ্ঠান। কালো টিশার্ট, নীল জিনস, গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ির সৌরভ গাঙ্গুলি তার মধ্যেও ক্রিকেটীয় ইস্যুতে চেনা স্টান্সে। বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার হয়ে ব্যাট ধরাতেই যা প্রতিফলিত!
এই মুহূর্তে ক্রিকেটমহল তোলপাড় দুই মহাতারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে। ডনের দেশেই কি শেষবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যাবে বিরাট-রোহিতকে, জল্পনা তুঙ্গে। স্বয়ং সৌরভ অবশ্য অক্টোবরে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজকে দুই মহারথীর বিদায়-বাসর মানতে নারাজ। বরং তাঁর যুক্তি, ‘ওরা যদি অস্ট্রেলিয়ায় একদিনের সিরিজে ভালো খেলে, তবে এই ঘরানায় আরও কিছুদিন খেলুক না। কোহলির একদিনের রেকর্ড অবিশ্বাস্য। রোহিতেরও তাই। সাদা বলের ক্রিকেটে দু’জনেই দুর্ধর্ষ।’ অর্থাৎ, বিরাট-রোহিতের ভাগ্যাকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা বলে মানতে চাইছেন না সৌরভ। তা সে টেমসের পাড়ে যতই শুভমান গিলের তরুণ ব্রিগেড হার-না-মানা লড়াইয়ে টেস্ট সিরিজ ড্র রাখুক না কেন!
নিকো পার্ক সংলগ্ন ওয়েস্ট সাইড প্যাভিলিয়নে বর্তমান ও ফরচুন কাচ্চি ঘানি আয়োজিত বর্ষামঙ্গলের ইলিশ উৎসবে আবার অন্য মেজাজে দেখা গেল মহারাজকে। রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ গাড়ি থেকে তিনি নামা মাত্রই আবেগের চেনা বিস্ফোরণ। নিরাপত্তার বেষ্টনী পেরিয়ে বাড়িয়ে দেওয়া হাত, সেল্ফির আকুতি-মিনতি। কারও অনুরোধই ফেরালেন না। কে বলবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পনেরো বছর পার? সৌরভ এখনও বঙ্গহৃদয়ের তোলপাড় করা আবেগ। আর সেই উন্মাদনায় আমজনতা থেকে সেলিব্রিটি— কেউ পিছিয়ে নেই। ব্যাকস্টেজে তাঁর সঙ্গে আড্ডায় মাতলেন অন্যান্য অতিথিরাও। কিছুক্ষণ বাদেই মঞ্চে পাশাপাশি সৌরভ-আবির। মজার মেজাজে চলল কুইজ। দর্শকদের কাছে জানতে চাওয়া হল, ‘প্রিন্স অব ক্যালকাটা’র পুরো নাম কী? সৌরভ চণ্ডীদাস গাঙ্গুলি— সঠিক উত্তর দেওয়া ব্যক্তি পেলেন ফরচুন অয়েলের পাউচ প্যাকেট। তাঁর নাম আবার স্নেহাশিস! এবার প্রশ্ন হল সৌরভের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের সাল নিয়ে। একজন লর্ডসে ১৯৯৬ সালের টেস্ট অভিষেকের কথা বললেন। পরের জন ১৯৯২ সালে ওডিআই অভিষেকের কথাও মনে করালেন। দু’জকেই মঞ্চে ডেকে নিলেন সৌরভ। অবশেষে জানা গেল, দ্বিতীয় উত্তরদাতার পদবিও গাঙ্গুলি!
ভেসে এসেছে এশিয়া কাপের প্রসঙ্গও। নির্দ্বিধায় টিম ইন্ডিয়াকে ফেভারিট তকমা দিচ্ছেন সৌরভ। শানিত ক্রিকেট মস্তিষ্কের পরিচয় রেখে বললেন, ‘লাল বলের ক্রিকেটে ভারত রীতিমতো শক্তিশালী। তবে আরও শক্তিশালী সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটে। দুবাইয়ের পিচে ভারতকে হারানো কঠিন।’ পরের মাসেই সিএবি’তে নির্বাচন। সভাপতি পদে লড়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সদস্যরা চাইলে বঙ্গ ক্রিকেটের সেবা করতে আগ্রহী। তাঁর ইচ্ছাপূরণের পথে কাঁটা বিছানো কিনা, তা সময়ই বলবে!