Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁর পিএর নির্দেশেই বালিঘাটের মালিকদের থেকে টাকা তোলা’, দাবি পূর্ব বর্ধমানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের

বিজেপির সাংসদ সৌমিত্র খাঁ’র পিএর নির্দেশেই বালিঘাটের মালিকদের কাছে থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

‘বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁর পিএর নির্দেশেই বালিঘাটের মালিকদের থেকে টাকা তোলা’, দাবি পূর্ব বর্ধমানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিজেপির সাংসদ সৌমিত্র খাঁ’র পিএর নির্দেশেই বালিঘাটের মালিকদের কাছে থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। বর্ধমানের রেনেসাঁর কাছে একটি গাড়ি থেকে সাড়ে ছ’লক্ষ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নেমে এমনটাই জানতে পেরেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে পূর্ব বর্ধমানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, একটি ইনপুটের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে রেনেসাঁর কাছে জাতীয় সড়কের উপর একটি সাদা রংয়ের গাড়ি আটক করি। সৌরভ ঘোড়ুই এবং বাবলু হাঁসদা নামে দু’জন গাড়িতে ছিল। তাদের জেরা করে গাড়ি থেকে ছ’লক্ষ ৪৯হাজার টাকা পাই। টাকার উৎস সম্পর্কে তারা প্রথমে কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওরা বলে, পূর্ব বধর্মান এবং পাশের জেলার বিভিন্ন বালিরঘাট থেকে তারা টাকা তুলেছে। হৃদয় পাল নামে এক ব্যক্তি তাদের টাকা সংগ্রহ করার জন্য পাঠিয়েছিল। সে বিষ্ণপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁর পিএ। এই নেটওয়ার্কে যারা যুক্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা ওদের টাকা দিয়েছিল তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদিও সৌমিত্র খাঁ পুলিশের অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি চ্যালেঞ্জের সুরে বলেন, হৃদয় পাল আমার পিএ নয়। তবে তিনি আমার পরিচিত। আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নামে পাঁচ কোটি টাকার মানহানির মামলা করব। পুলিশই বালির ঘাট থেকে টাকা নেয়। খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল সভাপতি অপার্থিব ইসলাম বলেন, আমরা বহুদিন ধরেই বলে আসছিলাম, ওই বিজেপি নেতা বালির ঘাট থেকে টাকা তুলছেন। সেটা প্রমাণ হয়ে গেল। খণ্ডঘোষের বিভিন্ন বালির ঘাটের মালিকদের ভয় দেখিয়ে ওরা টাকা সংগ্রহ করেছে। কেউ টাকা না দিলেই ইডির ভয় দেখায়। বালি ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে ওরা বহুদিন ধরে তোলা আদায় করছে। আশা করি, পুলিশ এই চক্রের বিজেপির মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেপ্তার করবে। তিনি মুখে অনেক বড় বড় বড় কথা বলেন। নিজেকে সৎ দেখানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি আসলে কী, সেটা পুলিশ বুঝে গিয়েছে।

Advertisement

কীভাবে চলে তোলাবাজি? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই গ্যাংটি দু’রকমভাবে টাকা সংগ্রহ করত। আগে কোথাও অবৈধ বালির ঘাট চললে সেখানে পৌঁছে যেত। তবে, এখন অবৈধ বালির ঘাটের রমরমা নেই। এখন যেসব বৈধ ঘাট চলে তার মালিকদের কাছে এই গ্যাংয়ের সদস্যরা যায়। তারা ঘাট মালিকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, ‘আপনি যতটা টেন্ডার পেয়েছেন তার থেকে অনেক বেশি এলাকাজুড়ে বালি কাটছেন। ‘দাদা’ আপনার নামে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে অভিযোগ করবে। তবে যদি কিছু খরচ দেন তাহলে আর অভিযোগ হবে না।’ অনেক বালির ব্যবসায়ী ঝামেলায় না জড়িয়ে তাদের টাকা দিয়ে দেয়। সেভাবেই ‘দাদা’র  গ্যাংয়ের দু‌ই সদস্য টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু এযাত্রায় রক্ষা পায়নি। পুলিশ তাদের শ্রীঘরে পাঠিয়ে দাদার কাছ পর্যন্ত পৌঁছাতে চাইছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ