নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: নিজের নামে থাকা একমাত্র জমি দানপত্র করে ছোট ছেলে মহম্মদ সাহিল ওস্তার হাতে তুলে দিয়েছেন। এরপরই ওই ছেলের সংসারে বোঝা হয়ে উঠেন প্রৌঢ়া সবেরা বিবি! অভিযোগ, বৃদ্ধা মা'য়ের দেখভালের দায়িত্ব থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন সাহিল। বারংবার সহমর্মিতার আশা করেও তাঁকে হতাশ হতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি আইনের পথে হেঁটে মেইনটেনেন্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অব সিনিয়র সিটিজেন অ্যান্ড প্যারেন্টস ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানি শেষে রায় ঘোষণা হয় বৃদ্ধার পক্ষেই। রায় ঘোষণার পর কয়েক মাস পেড়িয়ে গেলেও খাওয়া খরচ বাবদ এক পয়সাও পাননি। ঘটনায় ওই প্রৌঢ়া ফের একবার ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হন৷ সোমবার ছিল শুনানির দিন। মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, রায় আগেই ঘোষণা হয়েছে। তবে, প্রৌঢ়ার ছোট ছেলে সেই রায় মেনে বৃদ্ধার হাতে এক টাকাও তুলে দেননি৷ ট্রাইবুনালের রায় অনুসারে মা'য়ের হাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা তুলে দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। রায় অমান্য করলে এরপর ওয়ারেন্ট জারি করা হবে।
সবেরা বিবি পুরুলিয়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডিগুডিপাড়ার বাসিন্দা। সেখানেই তাঁর বসতভিটে৷ বছর দশেক আগে তাঁর স্বামী মারা যান৷ জানা গিয়েছে, সবেরা বিবির বড় ছেলে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। মেজ ছেলে বাবার নামে থাকা একটি জমিতে বাস করেন। তবে ছোট ছেলে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বৃদ্ধার নামে থাকা বাড়িতেই থাকেন৷ যদিও বছর কয়েক আগে দানপত্র করে প্রৌঢ়া নিজেই ওই বাড়ি তাঁর ছোট ছেলের হাতে তুলে দেন৷ অভিযোগ, এরপরই তিনি ছেলের সংসারে বোঝা হয়ে উঠেছেন। খাওয়া-দাওয়া সহ ওষুধ বাবদ এক পয়সাও হাতে পান না। এই পরিস্থিতিতে দিশেহারা সবেরা বিবি প্রতিদিনই বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়ি গিয়ে খাওয়া দাওয়া সেরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে ছোট ছেলের তরফে সামান্য সহমর্মিতা না পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। অবশেষে চলতি বছরের ১৪ মে তিনি মামলা দায়ের করেন৷ মামলার একাধিক শুনানি পর্বে নোটিশ উপেক্ষা করে সাহিল অনুপস্থিত ছিলেন। অবশেষে ৯ জুলাই শুনানি পর্বে বৃদ্ধার বয়ান শুনে মামলার রায় ঘোষণা হয়। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি মাসে বৃদ্ধা মায়ের দেখভালের জন্য সাহিলকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে।
রায় ঘোষণার পর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও ওই প্রৌঢ়া এক টাকাও হাতে পাননি। এই পরিস্থিতিতে ফের তিনি ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হন। সমস্যার সমাধানে ট্রাইবুনালের তরফে এদিন শুনানি পর্বে সাহিলকে তলব করা হয়েছিল। সেই মোতাবেক তিনি হাজিরা দেন। হাজিরা পর্বে উপস্থিত হয়ে সাহিল বলেন, সামান্য টাইলস মিস্ত্রির কাজ করে খুব একটা আয় হয় না। প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে, মায়ের খাওয়া দাওয়া সহ ওষুধ খরচের দায়িত্ব নিতে রাজি। এক্ষেত্রে পুনরায় এই রায় বিবেচনা করার বিষয়ে আর্জি জানান। সবেরা বিবি বলেন, ছোট ছেলে আমার বিষয়ে ভাবে না। দু' বেলা পেট ভরে খাওয়ার জন্য বড় মেয়ের সংসারের উপর ভরসা করতে হচ্ছে। অথচ আমার ছেলের আয় খুব একটা খারাপ নয়। আমি চাই ছেলে ট্রাইবুনালের নির্দেশ মেনে প্রতি মাসে আমার খাওয়া ও ওষুধের খরচ যেন দেয়।