নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই প্রকৃত অর্থে সোনার বাংলা দেখতে পাবেন রাজ্যবাসী। মঙ্গলবার দিল্লিতে একথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এক বছরের মধ্যেই হাতেনাতে ফল পেতে শুরু করবেন সকলে। সবে ছ’মাস হয়েছে। দু’বছরের মধ্যে পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যাবে। পাঁচ বছরের মধ্যে প্রকৃত সোনার বাংলা তৈরি হবে। এরপর যখন দ্বিতীয় টার্মে বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসবে, তখন বিকশিত ভারতের প্রকৃত সুফল দেখা যাবে। সব ক্ষেত্রেই বাংলা এগিয়ে থাকবে। ঠিক যেমন স্বাধীনতার আগে ছিল।’
মঙ্গলবার জলশক্তি মন্ত্রকের গঙ্গাভাঙন সংক্রান্ত বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লিতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের সঙ্গে এবিষয়ে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাতিল। সরকারি এই বৈঠকের বিষয়ে শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘গঙ্গাভাঙন প্রতিরোধে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মিলতে পারে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের বৈঠকে আশ্বাস মিলেছে। মানিকচক, ভূতনি নিয়ে কথা হয়েছে। আইআইটি কানপুরের নির্দেশিকা মেনে কাজ হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষেরও কিছু ভূমিকা রয়েছে। আসলে বিগত ১৫ বছরে পূর্বতন তৃণমূল সরকার এসংক্রান্ত বৈঠকে আমন্ত্রণ সত্ত্বেও যোগ দেয়নি। ওরা নমামি গঙ্গের কোনো কাজও করেনি। একাধিক দুর্নীতি হয়েছে। নমামি গঙ্গে নিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যেই বিজেপি সরকার এব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ করতে চলেছে।’ একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানও বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
মঙ্গলবার বৈঠকের ফাঁকেই আলাদা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিআর পাতিলের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছেন শুভেন্দুবাবু। বিশেষত জল জীবনের মিশনের আওতায় যাতে রাজ্যের প্রত্যেক আদিবাসী এলাকায় পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সেই ব্যাপারেও কথা হয়েছে দু’জনের মধ্যে। মঙ্গলবার দিল্লিতে রাজ্যের পূর্বতন সরকারের শিল্প সম্মেলন নিয়েও চরম কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দুবাবু। তিনি বলেন, ‘আলাদা করে আর রাজ্যে শিল্প সম্মেলনের প্রয়োজন নেই। আমাদের রোজই শিল্প সম্মেলন হয়। সোমবার বিজয়া সম্মিলনীতেও ৫০০ জন শিল্পপতি এসেছিলেন। আগের সরকার এব্যাপারে মোচ্ছব করেছে। ১৬ লক্ষ কোটি টাকার মউ হয়েছে বিভিন্ন সময়। কিন্তু ১৬ টাকাও বিনিয়োগ আসেনি। আমি এমন কাজ করি না।’



