সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বুথ এলাকায় রাজনৈতিক কর্তৃত্ব থাকবে কার হাতে? এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করেই সোনামুখীতে খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার দিন রাতেই মূল অভিযুক্ত তৃণমূলের বুথ সভাপতি নাসিম শেখ এলকাছাড়া হয়ে যায়। তাকে ধরতে না পারলেও পুলিস তার দুই ছেলেকে আটক করে। মঙ্গলবার নিহতের পরিবারের তরফে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
সোমবার রাতে সোনামুখীর চকাই গ্রামে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হন স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সেকেন্দর শেখ। ওই গ্রামেই তাঁর বাড়ি। চলতি বছর মার্চ মাসে ওই বুথেরই সভাপতি নাসিম শেখকে লক্ষ্য করে গুলি করার অভিযোগে পুলিস সেকেন্দরকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। গ্রামে ফিরতেই ফের এলাকায় রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ফলানো নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে পুরানো দ্বন্দ্ব মাথা চাড়া দেয়। তার জেরেই সোমবার রাতে বড়জোড়ার পখন্না থেকে বাইকে ফেরার সময় পথ আটকে খুব কাছ থেকে পরপর তিন রাউণ্ড গুলি করা হয়। তাতেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। রাতেই বিশাল পুলিস বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিস সন্দেহভাজন দু’জনকে আটক করে। মঙ্গলবার সেকেন্দরের দেহ বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করানো হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সোনামুখী ব্লক সভাপতি বামাচরণ গড়াই বলেন, চকাই গ্রামে দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে আমাদের দলের এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিস তদন্ত করছে।
তৃণমূল কংগ্রেস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনামুখীর পিয়ারবেড়া গ্রামপঞ্চায়েতের অন্তর্গত চকাই বুথের তৃণমূল সভাপতি রয়েছেন নাসিম শেখ। তবে এলাকায় সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজকর্ম নিয়ে দলেরই একাংশের ক্ষোভ তৈরি হয়। বিপক্ষের নেতা ছিলেন সেকেন্দর খান। চলতি বছরের ১ মার্চ পঞ্চায়েতের একটি নালা তৈরিকে কেন্দ্র করে চকাই গ্রামে নাসিম ও সেকেন্দরের গোষ্ঠীর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। তাতে নাসিম গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার সময় বাসিন্দারা সেকেন্দরকে হাতে নাতে ধরে ফেলেন। তাঁকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। ঘটনায় নাসিম ও সেকেন্দর দু’জনকেই বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলে পুলিস সেকেন্দরকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনায় পুলিস সেকেন্দরের অপর দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করে। প্রায় ১ মাস জেল খাটার পর সেকেন্দর জামিনে মুক্তি পান। গ্রামে ফিরেই তিনি ফের নিজের কর্তৃত্ব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেন। তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে পুনরায় রেষারেষি শুরু হয়। অভিযোগ, গ্রামে কবরস্থানের পাঁচিল নির্মানের জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। এবং ওই কাজের তত্বাবধানের দায়িত্ব কে পাবে, তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলতে থাকে। তারপরেই সোমবার পখন্না বাজার থেকে ফেরার সময় গ্রাম থেকে মাত্র ১ কিলোমিটারের মধ্যে ফাঁকা রাস্তায় বাইক আটকে তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়। এদিকে ঘটনার পর থেকে নাসিম সহ তাঁর পরিবার ও অনুগামীরা পলাতক।
মঙ্গলবার গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, গোটা গ্রাম থমথমে। নিহতের পরিবারের লোকেরা নাসিমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁরা বলেন, নাসিমের দুর্নীতি সেকেন্দর মানতে পারেননি। তিনি প্রতিবাদ করছিলেন। সেজন্য পথের কাটাকে সরিয়ে দেওয়া হল। দোষীদের চরম শাস্তি চাই।