নয়াদিল্লি, ২০ জুলাই: টানা ২০ দিনের বেশি অনশনে আছেন সোনাম ওয়াংচুক। ভর্তি আছেন দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে। এবার তাঁর এই দীর্ঘ অনশন ভাঙবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তিনি বেঁধে দিয়েছেন তিনটি শর্ত। অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে ওই তিনিটি শর্ত, তবেই তিনি অনশন ভঙ্গ করবেন এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে থেকে হাতে লেখা এক চিঠিতে তিনি তাঁর এই শর্ত গুলি জানিয়েছেন। কী সেই শর্তগুলি?
চিঠিতে ওয়াংচুক দাবি করেছেন, বর্তমানে তাঁকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। এবং তাঁর চলাফেরা, বক্তব্য রাখা ও যোগাযোগের স্বাধীনতাকেও দমিয়ে রাখা হয়েছে। আজ সংসদে শুরু হচ্ছে বাদল অধিবেশন তাই ওয়াংচুক তাঁর প্রথম শর্তে বলেন, বদল অধিবেশনে শিক্ষা ব্যবস্থার সাম্প্রতিক নানা ব্যর্থতা, বিশেষ করে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার দায় সরকারকেই স্বীকার করতে হবে। দ্বিতীয় শর্তে তিনি জানান, যদি তিনি এবং সিজেপি এর নেতৃত্ব সংসদে যাওয়ার সুযোগ পান এবং সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদ ও নেতারা তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে বিষয়টি সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে, তাহলে তিনি তাঁর অনশন প্রত্যাহার করবেন। তৃতীয় শর্তে ওয়াংচুক উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে সংসদে যাওয়া সম্ভব না হলে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদ ও নেতাদের হাসপাতালে এসে তাঁকে এই মর্মে আশ্বাস দিতে হবে যে তাঁর উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী হিসেবে পরিচিত সোনাম ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা সংস্কার এবং লাদাখের বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছেন। গত ২৮ জুন দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে যোগ দিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশন শুরু করেন। আন্দোলনের মূল ইস্যু ছিল নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের ভূমিকা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার বিষয় নিশ্চিত করা।
অনশনের ২১তম দিনে, অর্থাৎ ১৮ জুলাই সকালে, দিল্লি পুলিশ তাঁকে যন্তরমন্তর থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করেন। এর একদিন আগে চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থাকে অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ অনশনের ফলে অঙ্গ বিকলের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন। একই সময়ে দিল্লি হাইকোর্টও সরকারকে তাঁর জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এখন সোনামের এই তিন শর্ত সরকার মানবে কি না তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
অন্যদিকে আজ থেকে শুরু হল সংসদের বাদল অধিবেশন। আর এই দিনেই 'সংসদ চল' কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন সোনাম ওয়াংচুক। সেইমতো ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকরা সকাল থেকেই জড় হতে থাকেন যন্তর মন্তরের সামনে। এরপর তারা এগিয়ে যান সংসদ ভবনের দিকে। এই কর্মসূচি আটকানোর জন্য কয়েক হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়ন ছিলেন। পুলিশকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি-হাতাহাতির ঘটনা ঘটতে থাকে। হয় লাঠিচার্জ। ছোড়া হয় কাদানে গ্যাস। নিরাপত্তার কারণে সংসদের সমস্ত গেট বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এই ঘটনায় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজধানীর রাজপথ।