Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১০ দিন সীমান্তের জঙ্গলেই সোনালিরা, বিএসএফের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ

রাত ১২টায় জঙ্গলঘেরা এলাকায় বাংলাদেশে জোর করে ঢুকিয়ে দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। সেখানে বিজিবি ছিল না। দশদিন ধরে না খেয়ে জঙ্গলে ঘুরেছেন।

১০ দিন সীমান্তের জঙ্গলেই সোনালিরা, বিএসএফের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রাত ১২টায় জঙ্গলঘেরা এলাকায় বাংলাদেশে জোর করে ঢুকিয়ে দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। সেখানে বিজিবি ছিল না। দশদিন ধরে না খেয়ে জঙ্গলে ঘুরেছেন। সেখানকার বাসিন্দারা তাঁদের গ্রামের বর্ডার দিয়ে ভারতে চলে আসতে বলেন। সেইমতো ভারতে ঢুকতে গেলে বিএসএফ ধরে বেধড়ক মারধর করে ফের বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয়। রামপুরহাট মেডিক্যালে এমনই অভিজ্ঞতার কথা বলে চলেছেন অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবি। রবিবার হাসপাতালে এসে সোনালির সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল সহ দলের কয়েকজন বিধায়ক। জেলার মহিলা নেত্রী সাহারা মণ্ডলও তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের কাছে এমনই অত্যাচার ও মানসিক যন্ত্রণার কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন সোনালি। হাতজোড় করে তাঁর প্রার্থনা, স্বামী দানিশ সহ বাকিদের দ্রুত ভারতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক। অনুব্রত বলেন, সোনালি বিবি সুস্থ আছেন। স্বামী সহ বাকিদের ফেরানোর অনুরোধ করেছেন। তা দেখছেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। 

Advertisement

এদিন সকালে মেডিকেলে গিয়ে দেখা যায়, সোনালির সঙ্গে খুব বেশি লোকজনকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ২৪ঘণ্টাই তাঁকে চিকিৎসক ও নার্সদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সঙ্গে ছেলে সাবির শেখ ও মা জ্যোৎস্না বিবি রয়েছেন। দুপুরে সোনালির সঙ্গে দেখা করতে আসেন তৃণমূল নেতারা। সোনালির হাতে পুষ্পস্তবক দিয়ে শাল পরিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। তাঁর উপর হওয়া অত্যাচারের কাহিনি তুলে ধরেন সোনালি। তিনি বলেন, গভীর রাতে আমাদের বর্ডার পার করে বাংলাদেশের জঙ্গলে ঢুকিয়ে দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। সেখানে গভীর জঙ্গল আর নদী। চলতে গিয়ে পড়ে যাই। দশদিন কোনওভাবে কাটিয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রামে আসি। সেখানকার লোকজন গ্রামের বর্ডার দিয়ে ভারতে চলে আসতে বলে। কিন্তু বর্ডার পেরতেই বিএসএফ ধরে আমাদের বেধড়ক মারধর করে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয়। ওখানে যত কষ্ট পেয়েছি ততই নিজের দেশে ফিরে যত্ন পাচ্ছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করেছেন তা অন্য কেউ করবে না।
সোনালির মা জ্যোৎস্না বিবি বলেন, মেয়ে বাংলাদেশে অনেক কষ্টে ছিল। জঙ্গলে ঘুরেছে, স্টেশনে থেকেছে। চেয়েচিন্তে খেতে হয়েছে। মাঝে ভিক্ষে পর্যন্ত করতে হয়েছে। পেটে সন্তান থাকায় মেয়ে যেতে পারত না। জামাই, ছোট নাতি ও সুইটির ছোট ছেলেরা ভিক্ষা করে খাবার নিয়ে আসত। সেই ছোট নাতিদেরও জেল খাটতে হল। জ্যোৎস্নার অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ যখন আটক করে তখন ওদের ছাড়াতে গিয়েছিলাম। তখন আমাকেও আটক করেছিল। উকিলকে আট হাজার দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পাই। পরে সোনালি ও সুইটিদের ছাড়ানোর জন্য আমরা দুই পরিবার মিলে দু’জন উকিলকে ৮০হাজার টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু ওদের ছাড়েনি। তিনি বলেন, অনেকদিন পর শনিবার রাতে ভালো ঘুমিয়েছে মেয়ে। ও এখন ভালো আছে। তবে মেয়ে আর দিল্লি যাবে না। এখন জামাইয়ের জন্য চিন্তা করছে। নাতিও বাবা কবে ফিরবে জানতে চাইছে।  
এদিন দুপুরে মেডিকেল বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ৩৫সপ্তাহের গর্ভবতী সোনালির ভ্রুণের হার্টের শব্দ ও চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তাঁর চিকিৎসা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ