সংবাদদাতা, ঘাটাল: বর্ষবরণের রাতে মা-বাবার সঙ্গে কথা, ভোরেই ছেলের মৃত্যুসংবাদ, দাসপুর থানার রাধাকান্তপুরে শোকের ছায়া। বর্ষশেষের রাতে মা-বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন ছেলে। কিন্তু নতুন বছরের ভোরেই সেই ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছেন দাসপুর থানার রাধাকান্তপুরের দম্পতি। মৃত যুবকের নাম তাপস পাল (২৭)। তিনি মধ্যপ্রদেশের রতনাতে সোনার কাজ করতেন। দাসপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে তাপসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের খবর আসে। ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা জানতে মধ্যপ্রদেশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবারই সেখানে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পেশায় স্বর্ণশিল্পী তাপস বছর তিনেক আগে নিজের গ্রামেরই এক যুবতীকে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। বর্তমানে তিনি মধ্যপ্রদেশে শ্বশুরের দোকানেই কাজ করতেন এবং স্ত্রী নয়নাকে নিয়ে সেখানেই থাকতেন। তাপসের বাবা অজিত পাল এবং মা দীপালি পালের অভিযোগ, তাপসের নামে থাকা সম্পত্তি বিক্রি করে সেই টাকা শ্বশুরের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নয়না প্রায়ই চাপ দিতেন। দীপালিদেবী বলেন, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের ছেলের ওপর ওর স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মানসিক অত্যাচার চালাত। ছেলে ফোনে আমাদের সব জানাত। আমরা অশান্তি এড়াতে ওকে মন দিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিতাম।
তাপসের মামাদাদু পূর্ণচন্দ্র মাইতি জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ নয়না মধ্যপ্রদেশ থেকে দীপালিদেবীকে ফোন করে পুত্রবধূ হুমকি দিয়েছিলেন। পূর্ণচন্দ্রবাবুর অভিযোগ, নয়না ফোনে তার শাশুড়িকে বলেছিলেন, সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা না দিলে তিনি স্বামীর কোনও চিহ্ন রাখবেন না, এমনকি সিঁথির সিঁদুরও মুছে ফেলবেন, শাঁখা ভেঙে দেবেন। এরপরই ভোরে তাপসের মৃত্যুর খবর আসে। দীপালিদেবীর অভিযোগ, তাঁর ছেলেকে চক্রান্ত করে খুন করা হয়েছে। তাপস কোনওভাবেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন না। পূর্ণচন্দ্রবাবু জানান, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে দাসপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ হলে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হবে।