Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাসপুরে মাকে মারধর ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে ধৃত ছেলে, পলাতক বউমা

বৃদ্ধা মাকে খেতে না দেওয়া, মারধর ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে। দাসপুর থানার রাধাকৃষ্ণপুর থেকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে ‘গুণধর’ বাদল বাগকে।

দাসপুরে মাকে মারধর ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে ধৃত ছেলে, পলাতক বউমা
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: বৃদ্ধা মাকে খেতে না দেওয়া, মারধর ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে। দাসপুর থানার রাধাকৃষ্ণপুর থেকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে ‘গুণধর’ বাদল বাগকে। পুলিশ জানিয়েছে, বাদলের স্ত্রী মামণি বাগের বিরুদ্ধেও শাশুড়ির উপর অত্যাচারের অভিযোগ রয়েছে। তবে মামণি পলাতক। পুলিশ বাদল বাগ ও তার পলাতক স্ত্রীর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে।

Advertisement

নির্যাতিতা বৃদ্ধার নাম সরস্বতী বাগ। বয়স পঁচাত্তরের কাছাকাছি। বেশ কয়েক বছর আগে তাঁর স্বামী নারায়ণ বাগ মারা যান। তাঁদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। মেয়েদের আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছোট ছেলে মুকুন্দ বাগ প্রায় ১৭ বছর আগে রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যান। মুকুন্দবাবুর এক ছেলে ও এক মেয়ে বর্তমানে দাসপুর থানারই সরবেড়িয়ায় মামার বাড়িতে থাকেন।
বৃদ্ধা জানান, তাঁর নামে প্রায় দু’ বিঘা সম্পত্তি ছিল। সেই সম্পত্তি তিনি তাঁর বড় ছেলে বাদল এবং ছোট ছেলে মুকুন্দর সন্তানদের (নাতি-নাতনি) মধ্যে সমান ভাগে লিখে দেন। সম্পত্তি হস্তান্তরের পর থেকেই বড় ছেলে বাদল তাঁর উপর খেপে যায়। বাদলের ক্ষোভের কারণ, ভাইপো-ভাইঝিকে কেন সম্পত্তির ভাগ দিলেন মা। প্রতিবেশীরা জানান, সম্পত্তি হস্তান্তরের পর থেকেই বাদল ও তার স্ত্রী মামণি বৃদ্ধার উপর নানাভাবে অত্যাচার শুরু করেন। কখনও তাঁকে বাড়ি থেকে বার করে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হতো। কখনও বা বৃদ্ধা যাতে রাতে ঘুমোতে না পারেন, তার জন্য বিছানায় জল ঢেলে দেওয়া হতো। কাঁদতে কাঁদতে বৃদ্ধা জানান, তাঁকে ঠিকমতো খেতেও দেওয়া হতো না। অনেক সময়ে প্রতিবেশীদের থেকে খাবার চেয়ে খেতেন। এই অত্যাচার নিয়ে এলাকায় বহুবার সালিশি সভাও হয়েছে, কিন্তু বাদল প্রতিবেশীদের কোনও কথাই মানতে চায়নি।
সম্প্রতি, বাস্তুতে থাকা পেঁপে গাছের একটি পেঁপে পেড়ে বৃদ্ধা খেয়েছিলেন। এই ‘অপরাধে’ বাদল এবং তার স্ত্রী মিলে বৃদ্ধার গলা টিপে বেধড়ক মারধর করেন এবং আবারও ঘরে তালা ঝুলিয়ে বাড়ি থেকে বার করে দেন বলে অভিযোগ। বৃদ্ধা বলেন, এমনিতেই তাঁর এক চোখ নষ্ট। কাজ করতে খুবই অসুবিধা হয়। এই অবস্থায় ছেলে-বউমার এমন অত্যাচারে তিনি বাঁচবেন কী করে? তিনি আরও বলেন, ছোট ছেলের সন্তানদের জন্য তাঁকে আরও কিছু দিন বাঁচতেই হবে। তাই আর কোনও উপায় না পেয়ে তিনি বাধ্য হয়েই পুলিশের দ্বারস্থ হন।
সোনাখালি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মালবিকা পাল বলেন, ঘটনাটি শুনে মর্মাহত হলাম। ভারতীয় সংস্কৃতিতে মা-বাবা এবং প্রবীণদের স্থান সবার উপরে। কিন্তু সম্পত্তির লোভ বা অন্য কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি এমন অমানবিক আচরণ সমাজ ও মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়কে সূচিত করে। প্রবীণদের প্রতি এমন নির্যাতন কেবল নিন্দনীয় নয়, এটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধও বটে। সন্তানরা ভুলে যান, তাঁরা যে সম্পত্তির অধিকার নিয়ে ঝগড়া করছেন, সেই সম্পত্তি এবং তাদের জীবন দুটিরই উৎস এই প্রবীণ মানুষগুলি। প্রবীণ নাগরিক সুরক্ষা আইনের অধীনে প্রতিটি সন্তানের কর্তব্য তাঁদের বাবা-মায়ের ভরণপোষণ এবং সম্মান নিশ্চিত করা।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ