সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: স্কুলের মধ্যে বিষধর সাপ! তালডাংরার মামড়া প্রাথমিক স্কুলে রবিবার এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায়। ছুটির দিন বলে বাঁচোয়া। না হলে স্কুল চত্বরের পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ে একটি কেউটে সাপের উপস্থিতি বড়সড় বিপদ ঘটাতে পারত। কিন্তু এই সাপ ঘিরে এদিন পড়ুয়া ও শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসেন প্রধান শিক্ষক। গ্রামবাসীরাও ভিড় জমান স্কুলে। পরে বিষ্ণুপুর থেকে এক যুবক এসে সাপটি ধরেন। শুধু তাই নয়, দীপ কোনার নামে ওই যুবক এদিন স্কুলে মাইক হাতে পড়ুয়া ও গ্রামবাসীদের সাপ নিয়ে সচেতনতার পাঠও দেন। মামড়া প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক তারকনাথ দে বলেন, স্কুলের পুরানো বিল্ডিং পরিত্যক্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। সরকারি স্তরে বহুবার ওই বিল্ডিং ভাঙার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। তবে সাড়া মেলেনি। পরিত্যক্ত ওই বিল্ডিংয়ে সাপ সহ অন্যান্য জন্তু আশ্রয় নেয়। আমরা আতঙ্কের মধ্যেই স্কুলে থাকি। এদিন বিষধর সাপ দেখে আতঙ্ক আরও বেড়ে গিয়েছে। যিনি সাপ ধরতে এসেছিলেন তিনি মানুষের সচেতনতায় কিছু কথা বলেছেন। তাতে সাপ নিয়ে গ্রামীণ মানুষের ভয় কিছুটা কাটবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাঠের ধারে ওই স্কুল। তাই বর্ষায় পরিত্যক্ত স্কুল বিল্ডিংয়ে সাপের আশ্রয় নেওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। ওই বিল্ডিংয়ের সামনে ছাত্রছাত্রীরা খেলাধুলো করে। ভাগ্যিস একজনের নজরে পড়েছিল। তাই কেউটে ধরার ব্যবস্থা হয়েছে। বিল্ডিং ভাঙার জন্য বারবার স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই ব্যাপারে শালতোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মৌসুমী ঠাকুর বলেন, মামড়া প্রাইমারি স্কুলে সাপ বেরনোর খবর পাইনি। তবে সেখানে পরিত্যক্ত বিল্ডিংটি কীভাবে ভাঙা যাবে, তা নিয়ে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ করা হবে।



