Bartaman Logo
১৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

সরকারি হাসপাতালের রোগী ফেলে কাজের দিনে অন্যত্র চুটিয়ে প্র্যাকটিস, অভিযুক্ত কিছু শিক্ষক-চিকিৎসক

আগে অধিকাংশ সময় ছিল সরকারি হাসপাতালের আশপাশে প্র্যাকটিস। উলটোদিকের ছোটো-মাঝারি নার্সিংহোমে টুক করে গিয়ে রোগী দেখে আসা অথবা অপারেশন করে আসা।

সরকারি হাসপাতালের রোগী ফেলে  কাজের দিনে অন্যত্র চুটিয়ে প্র্যাকটিস, অভিযুক্ত কিছু শিক্ষক-চিকিৎসক
  • ১৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: আগে অধিকাংশ সময় ছিল সরকারি হাসপাতালের আশপাশে প্র্যাকটিস। উলটোদিকের ছোটো-মাঝারি নার্সিংহোমে টুক করে গিয়ে রোগী দেখে আসা অথবা অপারেশন করে আসা। পিজি হলে এক্সাইডের সামনের চেম্বারে, আর জি কর হলে বাগবাজারের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে, মেডিকেল হলে রাস্তার উলটো ফুটপাতের নার্সিংহোমে, এনআরএস হলেও প্রধানত উলটোদিকের একটি সেন্টারে—সরকারি চাকরি ও প্র্যাক঩টিস—দুয়ে ভারসাম্য রাখতে তাই করতেন প্র্যাক঩টিসিং চিকিৎসকরা। ‘বিগশট’দের অবশ্য ব্যাপারস্যাপারই আলাদা। তাঁরা শহরজুড়ে বিভিন্ন বড়ো মাঝারি কর্পোরেট হাসপাতালে প্র্যাকটিস করতেন (এখনো তাই)। 

Advertisement

সময় পালটেছে। এখন বেশকিছু সরকারি শিক্ষক-চিকিৎসক এমনকি কলকাতারই এক মেডিকেল কলেজের সুপার তথা উপাধ্যক্ষের রয়েছে ‘নিজের’ নার্সিংহোম। অভিযোগ, নিজের সরকারি চাকরির জায়গায় তিনি দৈনিক সময় দেন বড়োজোর ১-২ ঘণ্টা। আরো অনেকেই কাজের দিন ঩উপস্থিত থাকছেন জেলায় জেলায়, নার্সিংহোম-ক্লিনিকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এঁরা বরবারই ‘দুর্নীতিমুক্ত’, ‘স্বচ্ছ প্রশাসন’-এর দাবি জানিয়ে এসেছেন সরকার পক্ষের কেষ্টুবিষ্টুদের কাছে!
কয়েকজন বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক কম যাচ্ছেন না! আর জি করের এক বিভাগীয় প্রধান এবং এক অধ্যাপক সপ্তাহের মাঝখানে দু’টি কাজের দিনই ডিউটি ফাঁকি দিয়ে চলে যাচ্ছেন অন্য জেলায়। রোগী দেখতে ও অপারেশন করতে। মঙ্গলবার বেরিয়ে যাচ্ছেন বহরমপুর, শুক্রবার কাজে ফিরছেন কলকাতায়! বুধ-বৃহস্পতি হাসপাতালে তাঁদের দেখাই যাচ্ছে না। 
আরো অভিযোগ, কাজের দিনেই কলকাতা লাগোয়া এক জেলার মেডিকেল কলেজের সুপার তথা উপাধ্যক্ষ চলে যাচ্ছেন বহরমপুর। একটি ডায়গনস্টিক সেন্টারের রিপোর্টে সই করছেন। মেডিকেল কলেজের এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ গোটা দিনের জন্য প্র্যাকটিস করতে সপ্তাহের মাঝে যাচ্ছেন বাঁকুড়ায়! আর জি করে এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের প্র্যাকটিসের প্রিয় জায়গা সাগরদিঘি। তিনিও সপ্তাহের মাঝামাঝি গোটা দিনের জন্য ‘হাওয়া’ হয়ে যাচ্ছেন। সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজের কিছু সিনিয়র শিক্ষক-চিকিৎসককে দেখা যাচ্ছে ইসলামপুরে! চুটিয়ে চলছে চিকিৎসা-বাণিজ্য। 
কলেজে কাজের সময়ে সরকারি আউটডোর, ইনডোর রাউন্ড বা ওটি জুনিয়রদের জিম্মায় দিয়ে কয়েকঘণ্টার ফাঁকিতেই এখন আর প্র্যাকটিস সীমাবদ্ধ নেই। সরকারি ছুটি না নিয়ে এখন দুই-তিন থেকে চার-পাঁচ ঘণ্টায় ড্রাইভে গিয়ে সরকারি চিকিৎসকদের একাংশ প্র্যাকটিসে মেতেছেন বলে অভিযোগ। প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হয়েছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা (শিক্ষা) ডাঃ ইন্দ্রজিৎ সাহাকে। ফোন ধরেননি তিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ